• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

শাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

police n23
❏ রবিবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২২ দেশের খবর, শিক্ষাঙ্গন, সিলেট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তালা ভেঙে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের তালা ভেঙে পুলিশি নিরাপত্তায় ভিসিকে বের করে আনা হয়। এ সময় বাধা দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশের পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা উত্তেজনাকর স্লোগান দিতে শুরু করেন। তীব্র উত্তেজনার মুখে সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষে উত্তাল ক্যাম্পাস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এর মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে আইসিটি ভবনের গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে গিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বের করে তার বাসভবনের দিকে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত কয়েকজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

সন্ধ্যা সোয়া ৬টা নাগাদ পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশ সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।

এর আগে দুপুরে পৌনে ৩ টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বাসভবনে যাওয়ার পথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন উপাচার্য। এ সময় শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে সেই ভবনের কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে উপাচার্যকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের এ সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে ঘুরে দ্বিতীয় ছাত্রী হলের সামনে এসে শেষ হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।