সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
❏ বুধবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার।

১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়।

জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। ১৯৭১ সালের ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আবার আলোচনায় আসেন জিয়াউর রহমান। নানা পটপরিবর্তনের একপর্যায়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।

জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ১৯শে জানুয়ারি সকাল ১১টায় বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দ শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভা। ২০শে জানুয়ারি নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প।

দিনটি উপলক্ষে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতির এক ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমান এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী দায়িত্ব পালন করেন। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারী হয়ে শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয় এবং তিনি যুদ্ধে অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। তিনি হন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মহান নেতা।

তিনি বলেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দ্বারা জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে, বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আন্তর্জাতিক খেতাবপ্রাপ্তির মতো জাতির এরকম এক চরম দুঃসময়ে ৭ই নভেম্বর সৈনিক- জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া ক্ষমতার হাল ধরেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হয় এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ফখরুল বলেন, শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই আমরা স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক শক্তির থাবা থেকে মুক্ত হবো ও গণতন্ত্র ফিরে পাবো।

আর এর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ গৃহবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা দেশনেত্রীর বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।