অস্ত্রসহ আটক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়দানকারী রিজনের অপকর্মনামা

অপকর্মনামা
❏ বুধবার, জানুয়ারী ১৯, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ, শিক্ষাঙ্গন

সময়ের কন্ঠস্বর , ঢাবি : ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাবির সূর্যসেন হল থেকে পিস্তল ও নানা দেশীয় অস্ত্রসহ আটক আল আমিন খান রিজনকে নিয়ে চলছে ব্যপক সমালোচনা।

প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তার নানা দুর্নিতির গল্প,  বেরিয়ে আসছে নানা চমকপ্রদ সব ঘটনা। আশে পাশের দোকান, টং থেকে জোর করে ফাও খাওয়া সহ এক নরসুন্দরের কাছে চাঁদাবাজির ঘটনা জন্ম দিয়েছে ব্যপক আলোচনার।

চাঁদাবাজির সুনির্দিস্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে অস্ত্রসহ আল আমিন খান নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে হল প্রশাসন। পরে তাকে প্রক্টোরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

হল প্রশাসন তার রুমে অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, হকিস্টিক, রডসহ তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করার পর পুলিশ জানিয়েছে জব্দকৃত পিস্তলটি খেলনা পিস্তল।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে সূর্যসেন হলের ১০২ নম্বর কক্ষ থেকে আটক করা হয়। আল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে।

হল সূত্রে জানা যায়, আটককৃত আল আমিন খান রিজন ছাত্রলীগের হলের পদ প্রত্যাশী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজি করে আসছিল। হলের বিভিন্ন দোকানে ফাও খেত। পরে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনকে অবহিত করলে প্রশাসন তাকে আটক করে।

হলের শিক্ষার্থীরা জানান, আল আমিন খান রিজন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। সে ছাত্রলীগের হল ক্যান্ডিডেট পরিচয় দিয়ে হলের আশপাশের দোকান থেকে চাঁদাবাজি করতো। কয়েকদিন ধরে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। হলের দোকানদারদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা আদায় করতো। পরে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনকে অবহিত করলে প্রশাসন তাকে আটক করে।

আটক আল আমিন খান রিজনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার গড় মহাস্থানে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ সেশনে ফিনান্স বিভাগে ভর্তি হয়। ২০১৫-১৬ সেশনে পুনঃভর্তি হয়। ২০১৬-১৭ সেশনে পুনঃভর্তির আবেদন করলেও আর ভর্তি হয়নি। সে অছাত্র হিসেবেই সূর্যসেন হলের ১০২ নম্বর রুমে ছিল।

এর আগে আটক আল আমিন খান রিজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে সূর্যসেন হলের সেলুনের মালিক মো. জুনায়েদ বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আল আমিন খান আমাকে হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ডাকেন। তিনি আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। বলেন, ‘তুই তো ছাত্রলীগের অন্যদের টাকা দিস, আমাকে দিস না’। একপর্যায়ে তিনি একটি পিস্তল বের করেন। পিস্তল দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। আমার কাছে তখন কিছু টাকা ছিল। আমি তাঁকে তিন হাজার টাকা দিই। আল আমিন খান আমাকে বলেন, ‘যে তাঁকে আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে এবং এখন থেকে ১৫ দিন পর পর তাঁকে টাকা দিতে হবে।’ এই টাকার কথা কাউকে জানালে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি।”

জুনায়েদ বলেন , ‘মঙ্গলবার আল আমিন খান আবারও আমাকে ফোন করে টাকা নিয়ে তাঁর কক্ষে যেতে বলছেন।’ এসব বিষয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন সেলুন মালিক মো. জুনায়েদ।

এদিকে, সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্র বলেছে, অভিযুক্ত আল আমিন খান কখনো ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। ২০১৮ সালে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর তিনি হলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হিসেবে ছাত্রলীগে সক্রিয় হন। পরে রেজওয়ানুল ছাত্রলীগের পদ হারালে আল আমিন আল নাহিয়ান খানের অনুসারী হন। তবে হলে তাঁর তেমন সাংগঠনিক অবস্থান নেই।

চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করার সুযোগ নেই। হল প্রশাসনকে অভিযোগ যাচাই করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

এই বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা হল প্রশাসন সব সময় হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সোচ্চার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই আমরা হল প্রশাসন তার রুমে অভিযান চালিয়ে একটি পিস্তল, হকিস্টিক, রডসহ তাকে আটক করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আটকের পর তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে দেওয়া হয়েছে। তারা তাকে থানায় হস্তান্তর করবে। হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘হল প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। এখন তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’