• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

দেড় মাস পর প্রকাশ্যে এসে যা বললেন মুরাদ হাসান

murad n2
❏ রবিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২২ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

সময়ের কণ্ঠস্বর, জামালপুর- দীর্ঘ দেড় মাস পর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপির দেখা মিলল তার নির্বাচনী এলাকা সরিষাবাড়ীতে। বিতর্কিত মন্তব্য ও নারীদের নিয়ে অশোভন বক্তব্য দিয়ে গত ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এলাকায় আসেননি তিনি।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার চাচা মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদার ইন্তেকাল করেন। এ মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে চাচাকে শেষ দেখা দেখতে আসেন মুরাদ হাসান। এ সময় মুরাদ তার অনুসারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ও করতে দেখা গেছে।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার কলেজ মাঠে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারের জানাজায় অংশ নেন মুরাদ হাসান এমপি।

চাচার জানাজায় অংশ নিয়ে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ীর উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি, এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই পবিত্র মাটি।

তিনি বলেন, ‘সরিষাবাড়ীতে যত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন তার চেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধা আমাদের গ্রাম দৌলতপুরে। আমার বাবাসহ আমরা সরিষাবড়ীর মানুষের সেবা করে আসছি এবং করে যাব।’

জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে। এর আগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

দুপুর ২টায় তার চাচার দাফন কার্যক্রম শেষ করে ফের ঢাকা চলে যান মুরাদ।

রাজনৈতিক ব্যক্তি, নারীজাতি ও সংবিধান নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য এবং সর্বশেষ নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে আপত্তিকর অডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে গত ৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন ডা. মুরাদ হাসান।

ওইদিনই জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ তাকে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় ডা. মুরাদ হাসানকে।

তার পদত্যাগের খবরে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা তার কুশপুতুল দাহ, আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। এরপর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন ডা. মুরাদ। ৬ জানুয়ারি স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান বিজলীকে নির্যাতনের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। তবে এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী।