🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

অবশেষে স্থায়ী ঠিকানা পেলো অসহায় সেই নবজাতক!

নবজাতক
❏ বুধবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ঢাকা

ফরিদপুর : অবশেষে স্থায়ী ঠিকানা পেল ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতক আব্দুল্লাহ ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা কবিরের মধ্যস্থতায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইসলামের স্থায়ী দায়িত্ব নিয়েছেন রফিকুল ইসলাম-ফারজানা আক্তার দম্পতি।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা কবীর শিশুটিকে তুলে দেন রফিকুল ইসলাম-ফারজানা আক্তার দম্পতির কোলে। নিঃসন্তান রফিকুল ইসলাম একটি সন্তানের জন্য চারটি বিয়ে পর্যন্ত করেছেন। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখা হয়নি। নিঃসন্তান ওই দম্পতি নবজাতক আব্দুল্লাহকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনেকেই আব্দুল্লাহকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে সবদিক বিচার-বিবেচনা করে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে সদর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গী নিবাসী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম-ফারজানা আক্তার দম্পতিকে ওই শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকে রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তার দেখভাল করে আসছিলো। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রফিকুলকে দিয়ে শিশুটির নামে ১৩ শতাংশ জমি লিখে দেওয়া হয়। ওর শিক্ষার জন্য ৩ লাখ টাকা ১৫ বছর মেয়াদী স্থায়ী আমানত হিসাবে রাখা হয়। এসব শর্ত নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে একটি চুক্তিবদ্ধ করে তারপর নবজাতকটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা কবির বলেন, নবজাতক শিশুটিকে দত্তক নিয়ে লালন পালন করার জন্য এলাকার বেশ কয়েকজন আবেদন করেন। রোববার উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে সভা করা হয়। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবেদনের ভিত্তিতে অভিভাবক নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রফিককে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দিলেও শিশুটির প্রতি আমার দায়িত্ব শেষ হয়নি। আমি শিশুটির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখবো। পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে থাকার চেষ্টা করবো।