🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

মানুষ বলতে চাই না, আমি তাকে দানব বলি: জাফর ইকবাল

জাফর
❏ বুধবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ‘আমি যতটা চিন্তা করেছিলাম অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। তাদের শরীরে স্যালাইনও পুশ করা যাচ্ছে না। বেশির ভাগই বসতে পারছে না। যে মানুষ এই অবস্থা দেখার পরও নিজের জায়গায় অনড় থাকে, তাকে আমি মানুষ বলতে চাই না। আমি তাকে দানব বলি।’

বুধবার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে করা অনশনকারীদের অনশন ভাঙিয়ে সাংবাদিকদের দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান তিনি।

এরপর বেলা সোয়া ১১টার দিকে তিনি সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বুধবার ভোর ৪টার দিকে স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে নিয়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছান তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থীরা তাদের কথা শুনে অনশন ভাঙায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শাবিপ্রবির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘আমি ও প্রফেসর ইয়াসমিন হক গত রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ভোর রাতে এখানে পৌঁছাই। আমরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি। আমরা তাদের অনুরোধ করি, তোমাদের প্রাণ অনেক মূল্যবান। এই প্রাণ এই রকম একজন মানুষের জন্য তোমরা বিপদগ্রস্ত করবে না। তারা আমাদের অনুরোধ রক্ষা করে আজকে সকালবেলা সবাই মিলে অনশন ভঙ্গ করেছে। আমি আমার জীবনে এর থেকে বেশি আনন্দ কখনো পাই নাই। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন তাদের হাসপাতালে নিতে হবে, তারা যেন সুস্থ হয়ে উঠে ঠিকভাবে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘তোমাদের এই আন্দোলনের ফলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটা মডিফিকেশন হয়েছে। এটা নতুন করে বিশ্লেষণ করতে হবে যাকে ভিসি হিসেবে পাঠানো হয়েছে তিনি কি ভিসি হওয়ার যোগ্য কিনা! আমি অনেক কিছু জানি কিন্তু নিজেদের দুর্বলতা বলতে ভালো লাগে না। তোমরা যা করেছো সেটার কোনো তুলনা নাই। যে আন্দোলনটা তৈরি করেছো দেশের প্রত্যেকটা ইয়ং (তরুণ) ছেলেমেয়ে তোমাদের সঙ্গে আছে। অনেক বড় বড় মানুষ যোগাযোগ করেছেন।’

এসময় তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে যতগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সবগুলো অমানবিক, নিষ্ঠুর ও দানবীয়।

‘আমি ধরেই নিয়েছিলাম এখানে একটি মেডিক্যাল টিম থাকবে। কিন্তু এখানে কোনো মেডিক্যাল টিম নেই। শুধু তাই নয়, যারা তাদের টাকাপয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল, তাদের গ্রেপ্তার করে মামলা দেয়া হয়েছে। এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কিছু নেই। আমি আশা করব, এই বিষয়গুলো যেন অবশ‌্যই বন্ধ হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন মুক্ত করে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। আমি আশা করি, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো রাখবেন। যদি তারা তা না রাখেন তবে কেবল আমার সঙ্গে নয়, এ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’

জাফর ইকবাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর একটা স্মারকগ্রন্থে আমার কাছে একটা লেখা চেয়েছিল। সেই লেখাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানি দেয়া হয়েছে। আমি এই সম্মানির টাকাটা নিয়ে আসছি, শাবির এই আন্দোলনের ফান্ডে এই টাকা দিচ্ছি, তোমরা রাখো। তোমাদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য আমাকেও সিআইডি অ্যারেস্ট করুক।

পরে ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ঢাকা থেকে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু আমরা সিআইডি পুলিশ বুঝি না, আমাদের কথা দিয়েছে ছেলেদের ছেড়ে দেবে, তারা কালকেই ছেড়ে দেবে।’