• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

দুর্নীতি নিয়ে টিআই’র প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: তথ্যমন্ত্রী

hasan mahmud
❏ বুধবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- দুর্নীতির ধারণা সূচক নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) এর প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ে আগের ধারাবাহিকতায় টিআই যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা দেখে মনে হয় এটি গতানুগতিক ছাড়া কিছু নয়।’

টিআই একটি এনজিও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে চলে। টিআই জাতিসংঘের অ্যাফিলিয়েটেড কোনো সংস্থাও নয়। এটিকে আমাদের দেশে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভারতসহ অনেক দেশে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের সংগঠন থাকা ভালো, কিন্তু সেই সংগঠনের কোনো প্রতিবেদন যদি ভুল তথ্য-উপাত্তে হয় কিংবা ফরমায়েশি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা গতানুগতিক হলে সেই সংস্থার মানমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, সেটি একপেশে হয়। এবারের রিপোর্টটাও গতানুগতিক, একপেশে।’

ড. হাছান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে টিআইবি একটি বিবৃতি দিয়েছিল। টিআইবি কাজ করে দুর্নীতি নিয়ে। নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে রাজনৈতিক। টিআইবি বিবৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। তাদের বিবৃতি এবং বিএনপির বিবৃতির মধ্যে কোনও পার্থক্য ছিল না।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ফ্রান্সের লো মন্ড পত্রিকার মতে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের জরিপে কোনও দেশের দুর্নীতির আর্থিক মাত্রা পরিমাপ করতে পারে না। কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও দিয়ে এই জরিপ পরিচালিত হয়। যা সম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে নয়। যেসব সংস্থার অর্থে টিআইবি পরিচালিত হয়, সেসব সংস্থার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে সিমেন্স কোম্পানি থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার ফান্ড নেয় টিআই। যে কোম্পানি ২০০৮ সালে বিশ্বে দুর্নীতির জন্য ১৬০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়েছে। ২০১৫ সালে টিআইর ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক-এর আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কর্মকর্তা মিজ আনা বাজোনিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলে তিনি জনসম্মুখে এই ঘটনা তুলে ধরেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিআই প্রতিবেদনে বলেছে, তারা কোনও দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটুকু আছে সেটিও বিবেচনায় নেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরকে প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে দেখিয়েছে। অথচ সেখানে আমাদের দেশের মতো মত প্রকাশের ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কিংবা অবাধ তথ্যপ্রবাহ নেই। তাহলে সিঙ্গাপুর কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে বিবেচনায় আসে। পাকিস্তানের দুর্নীতির কথা দুনিয়াব্যাপী সবাই জানে। বাংলাদেশকে সেই পাকিস্তানের নিচে দেখিয়েছে টিআই।’