সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, চট্টগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২২ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি- অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানে ‘৮০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে’ কাজ না করে ৪১ জন শ্রমিকের নামে ব্যাংক হিসেব খুলে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জানে আলমসহ ৫ ব্যক্তি ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত বুধবার দুদকের চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর সহকারী পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর মামলা নং-০১।

দণ্ডবিধি ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম-২ এর উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- দাঁতমারা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম, তৎকালীন ট্যাগ অফিসার ইজিপিপি প্রকল্প প্রনবেশ মহাজন, ফটিকছড়ির কৃষি ব্যাংকের হেয়াকো শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে ফটিকছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আজিজুল হক, একই ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সুজিত কুমার নাথ ও ক্যাশিয়ার আবুল কাশেম।

৮০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে, ভুয়া মাষ্টাররোল তৈরি করে, শ্রমিকদের নামে ভুয়া হিসাব খুলে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। কাগজে কলমে যাদের শ্রমিক বলে উপস্থাপন করেছেন তারা কেউই শ্রমিক নয় এবং সকলেই স্বাবলম্বী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মোট ৮০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি হারে ৪১ জন শ্রমিকের ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করেছেন।

এজন্য তারা প্রকল্পে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে, প্রকল্পের ভুয়া মাষ্টাররোল তৈরি করে, শ্রমিকদের নামে ভুয়া হিসাব খুলে নীতিমালা ভঙ্গ করে, জব কার্ডের অনুমোদনকারী হয়ে প্রকল্পের ট্যাগ অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে শ্রমিকদের নামে অর্থ উত্তোলন করে শ্রমিকদের টাকা প্রদান না করে নিজেরাই আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও ২০১১ সাল থেকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত গত ৭ বছরে ৪ বার কর্মসৃজনের বরাদ্দ ও রাস্তাঘাট সংস্কারের অর্থসহ ১ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দে জালিয়াতি করে লুটপাট করেছেন।

দুদক চট্টগ্রাম-২ এর উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে দুদক তদন্ত করে ৪১ জন শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের দালিলিক প্রমাণ পাওয়ায় চেয়ারম্যানসহ বাকিদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুদক কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেন। ফলে, গত বুধবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও অন্যান্য আসামিদের মামলাটি দায়ের করা হয়।