আইন করেও আওয়ামী লীগের শেষ রক্ষা হবে না: মির্জা ফখরুল

fokrul n24
❏ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন করেও আওয়ামী লীগের শেষ রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ভাবছে নির্বাচন কমিশন আইন করে বেঁচে যাবে। বাকশাল করেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি, নির্বাচন কমিশন আইন করেও আওয়ামী লীগের শেষ রক্ষা হবে না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বাকশাল সংসদে গঠিত হয়েছিল মাত্র ১১ মিনিটে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি এ মাত্র খবর পেয়েছি যে, নির্বাচন কমিশন আইন-সেটি নাকি এই মুহূর্তে পাস হচ্ছে বা হয়ে গেল। আমি এখনই একটি কাগজে দেখলাম, আইনটি ১৭ তারিখে মন্ত্রিসভায় পাস করা হয়েছে। ২৩ তারিখে সংসদে দেওয়া হয়েছে। তারপরে এটি সংযোজন বা পরিবর্তন থাকলে সেটি নিয়ে হাউসে উপস্থাপনের জন্য সংসদীয় কমিটিকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা আজকে হাউসে নিয়ে এসে সেটিকে পাস করলেন!

মির্জা ফখরুল বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেদিনও বাকশাল করেছিল নিজেদের বাঁচানোর আশায় ও চেষ্টায়। আজকেও তারা একটি নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করল, সেটিও তারা ভাবছেন এই আইনটা পাস করে তারা বেঁচে যাবেন। সেই আশায় করলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেলেন বাকশাল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ঠিক একইভাবে এই নির্বাচন কমিশন আইন করেও তাদের শেষ রক্ষা হবে না।

‘এ ব্যাপারে আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি, আমাদের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্তের কথা আপনাদের জানিয়েছি যে, এই আইন পাস করার কোনো এখতিয়ার এই সংসদের নেই। কারণ এই সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সংসদ নয়। সুতরাং এই আইন আমাদের কাছে শুধু নয়, সারাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং গ্রহণীয় হতে পারে না। আর যে আইন মানুষ গ্রহণ করে না সেটি কোনো আইনই নয়। সেটি কেউ মানবে না, এটি কেউ মানবেই না।

নির্বাচন কমিশন আইন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি খুব স্পষ্ট করে বলতি চাই, আইন আমরা মানি না। আর এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনের প্রশ্নই উঠতে পারে না। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা আরেকবার বাকশালে ঢুকতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২৪ ঘণ্টা মিথ্যা কথা বলে। তাদের অভিধানের মধ্যে সত্য কথা বলা নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে একটা কথা আমি প্রায়ই বলি, এটা আমার উপলব্ধি, আমার অনুভূতি যে, এখন বাকশালটা নাই, কিন্তু একটা নতুন মোড়ক আছে। একটা গণতন্ত্রের মোড়ক, একটা লেবাস, একটা আলখাল্লা আর ভেতরে পুরো বাকশাল। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ এখন, এখনকার আওয়ামী লীগ। একদলীয় শাসনব্যবস্থা তারা করতে চায়, এটা তাদের অন্তরের বাসনা। তাদের চিন্তা-ভাবনা সব এক।’