নয়া আতঙ্ক নিওকোভ! কার্যকর হবেনা কোনো টিকাই!

নিওকোভ
❏ শুক্রবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২২ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে একের পর এক করোনার নতুন ধরন মানুষকে অতঙ্কিত করে তুলছে। সেই ধারাবাহিকতায় ডেল্টা, ওমিক্রনের পর এবার করোনার আরেক ধরনের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন এই আতঙ্কের নাম ‘নিওকোভ’ (NeoCov)। চিনা বিজ্ঞানীদের দাবি, এই প্রজাতির মারণক্ষমতাও তুলনামূলক ভাবে বেশি। চিনের বিজ্ঞানীরা NeoCoV সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছেন ইতিমধ্যেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোনো টিকাই কার্যকর নয় এই সংক্রমনে !

গবেষণায় আবিষ্কার করা হয়েছে যে NeoCoV এর নিকটাত্মীয় হল করোনা। বাদুড়ের দেহে যেমন অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম 2 (ACE2) ব্যবহার করে এটি প্রবেশ করে। তেমনই মানবদেহে ACE2 ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারে এই ভাইরাস।

রাশিয়ান ওয়েবসাইট স্পুটনিক ও উহানের একটি গবেষক দলের প্রকাশিত গবেষণার উধৃতি দিয়ে শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

নতুন এই ধরনের ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বেশি। শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে এই ধরন। প্রতি তিন সংক্রমিতের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হতে পারে নিওকোভে।

উহানের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্র। সেখানে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বাজারে চলতি কোনো করোনার টিকাই নিওকোভের ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে না। এই ভাইরাস নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

নিওকোভের মতো ধরনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে। প্রথম এই ধরনের সন্ধান মেলে দক্ষিণ আফ্রিকায়। মূলত বাদুরের শরীরে পাওয়া যায় নিওকোভ। এ নিয়ে বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার ‘ভেক্টর রাশিয়ান স্টেট রিসার্চ সেন্টার অব ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়ো-টেকনোলজি’ একটি বিবৃতি দেয়।

সেখানে বলা হয়, চিনা বিশেষজ্ঞরা যে নয়া ধরন নিয়ে সাবধান করছেন, তা নিয়ে এখনই চিন্তার কিছু নেই। মানব শরীর এই ধরনটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ।

রাশিয়ান ওয়েবসাইট স্পুটনিকের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, প্রতি তিন সংক্রমিতের এক জনের মৃত্যু হতে পারে ‘নিওকোভ’- এ। ভেক্টর রাশিয়ান স্টেট রিসার্চ সেন্টার অফ ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা নিওকোভ করোনাভাইরাস সম্পর্কে চিনা গবেষকরা যে ডেটা পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সময়ে, এটি মানুষের মধ্যে সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চলমান সময়ে ওমিক্রন নিয়ে সারা বিশ্ব আতঙ্কে আছে। তীব্র সংক্রমণ ক্ষমতার জন্য এই ধরন নিয়ে আলাদা ভাবে চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। তবে আশার কথা, ওমিক্রনে আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক কম।