• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

১৬টি মেশিন বিকল, রমেকে জীবন শঙ্কায় কিডনি রোগীরা !

Rangpur news
❏ শনিবার, মার্চ ৫, ২০২২ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল,রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ২ কোটি মানুষের কিডনি রোগীদের একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ডায়ালাইসিস মেশিনের ২৮টির মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে গেছে!

সচল ১৬টি মেশিনের মধ্যে অন্তত ৫/৬টি আবার বেশির ভাগ সময় বিকল হয়ে যায়। ফলে মেশিনের অভাবে দূরারোগ্য কিডনির অনেক রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের অধীন ডায়ালাইসিস বিভাগে ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেল।

শুধু তাই নয় ডায়ালাইসিস করতে রোগীদের সুই থেকে শুরু করে স্যালাইনসহ সব মালামাল নিজেরাই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। ডায়ালাইসিস বিভাগে লুটপাট অনিয়ম দুর্নীতি, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিয়ে তামাশা এমনটাই অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। গত তিন দিনে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে ৫ জন কিডনি রোগী।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকা কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো জরুরিভিত্তিতে মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করার দাবী জানিয়েছেন রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রোগীর স্বজনরা।

পঞ্চগড় থেকে দুটি কিডনি বিকল হওয়া মুমূর্ষু বাবাকে নিয়ে কলেজছাত্র অফজাল হোসেন তার বাবাকে বাঁচানোর করুণ আর্তনাদ করছেন। তিনি জানান, তিন দিন ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটে অবস্থান করছেন। সিরিয়াল পাচ্ছেন না। একবার সিরিয়াল পেলেও আধাঘণ্টা ডায়ালাইসিস করার সময় হঠাৎ করে ডায়ালাইসিস মেশিনটি বিকল হয়ে গেছে। এদিকে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তিনি জানান তাদের আর্থিক এমন কোন সঙ্গতি হাসপাতালের বাইরে ডায়ালাইসিস করাতে। কেন ডায়ালাইসিস মেশিন বার বার বিকল হচ্ছে, নষ্টগুলো সচল করা যাচ্ছে না এর জাবাব আমরা কার কাছে চাইবো। গাইবান্ধা থেকে এসেছেন আনোয়ারা বেগম ডায়ালাইসিস করাতে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে দুদিন ডায়ালাইসিস করতে হবে। কিন্তু মেশিন সংকটের কারণে একবার করতে হচ্ছে। তাও কমপক্ষে সাড়ে ৩ ঘণ্টা ডায়ালাইসিস না করালে পূর্ণ হয় না সেখানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার বেশি করানো হচ্ছে না।

তার স্বামী সাহোবুল আলম জানালেন আমরা ২৫ হাজার টাকায় প্যাকেজ কিনেছি। যা দিয়ে মাসে চার বার করে ৬ মাস ডায়ালাইসিস করা যায়। কিন্তু ইদানীং সুই থেকে শুরু করে স্যালাইনসহ কোন উপকরণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে না আমাদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে এতে অতিরিক্ত ৬/৭শ’ টাকা ব্যায় হচ্ছে। আমাদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে কোনভাবেই বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর এখন যেভাবে ডায়ালাইসিস করানো হচ্ছে তাতে করে রোগীরা এমনিতেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে বলে জানালেন তিনি।

রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম, আধঘণ্টা ডায়ালাইসিস দেবার পর মেশিনটি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি আবারো দেবার জন্য।

একজন রোগী ডায়ালাইসিস করছেন তার কাছে অপেক্ষা করছেন আরও তিন রোগী। এভাবেই ডায়ালাইসিস বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের করুণ আর্তি হাসপাতালের বাতাস ভারি হলেও কর্তৃপক্ষের তাদের আর্তির কোন গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।

ডায়ালাইসিস বিভাগের কর্তব্যরত ওয়ার্ড মাস্টার শরিফুল ইসলাম জানালেন, একজন রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে কমপক্ষে চার ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। কিন্তু আমরা মেশিন না থাকায় দিতে পারছি না এতে করে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

নেফ্রোলজি ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও স্টাফ নার্স আকলিমা বেগম অকপটে স্বীকার করে জানালেন, ডায়ালাইসিস মেশিনের ২৮টির মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে পড়ে আছে। তার মধ্যে ৩টি মনিটর কাজ না করায় ব্যাবহার করা যাচ্ছে না। আবার ১২/১৩টি ভালো থাকলেও এর মধ্যে কখন কোনটা ভালো থাকে কখন বিকল হয়ে যায় তার কোন গ্যরান্টি নেই।

ডায়ালাইসিস বিভাগের চিফ টেকনেশিয়ান মাসুদ রানা বলেন, ডায়ালাইসি মেশিনের সবগুলোর আয়ুষ্কাল শেষের দিকে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে হয় কারণ তারা সবাই তালিকাভুক্ত। এর বাইরে নেফ্রোলজি বিভাগের রোগী আছে। ১৮ ঘণ্টা সার্ভিস দিয়েও আমরা কুলাতে পারছি না। হাসপাতালের পরিচালকসহ বড় বড় কর্তাদের অনেক বার বলা হয়েছে তারা যদি ব্যবস্থা নেন তাহলেই সচল হতে পারে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম জানালেন, বিকল হয়ে যাওয়া ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো সচল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।