কেরানীগঞ্জে দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী পিঠা উৎসব


❏ রবিবার, মার্চ ৬, ২০২২ ইতিহাস-ঐতিহ্য

মাসুম পারভেজ, প্রতিনিধি (কেরানীগঞ্জ), ঢাকা: দেশের নানা পার্বণের পিঠার সমাহার নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম কমান্ডার খেলার মাঠে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতি নামের একটি স্বেচ্ছসেবী সংঠনের ব্যানারে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ পিঠা উৎসব চলে। এই উৎসবে স্থানীয় প্রায় ১৫ হাজার লোকের জন্য ৬০ হাজার পিঠার আয়োজন করা হয়।

পিঠা উৎসব ঘুরে দেখা যায়, পিঠার স্টলগুলো জমেছে বেশ। বন্ধু স্বজনদের নিয়ে অনেকেই এসেছিলেন গ্রামবাংলার পিঠার স্বাদ নিতে। বেশিরভাগ মানুষেরই আগ্রহের পিঠা ছিল মিষ্টি জাতীয়। তবে ঝালটক পিঠাতেও ছিল না অরুচি। যার মধ্যে ছিল- ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, তেলের পিঠা, নকঁশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, দুধরাজ, ফুলঝুরি পিঠাসহ আরও বাহারি সব নামের পিঠা।

উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুল হক সাহিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ আলম, আগানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আরশাদ হোসেন টিটু, সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ, আবুল কাশেম ভূইয়া, শ্রমিকলীগ নেতা ফরিদ আহমেদ ও হাজী মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

এসময় ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতির সভাপতি সাহিদুল হক সাহিদ বলেন, পিঠার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পিঠা বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। শীত আর পিঠা একে অপরের পরিপূরক। বাংলার গ্রামের মা, চাচি, খালা, বোন, ভাবিদের চিরায়ত সেই ঐতিহ্য নগরজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে। আবহমান বাংলার এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকাইয়া কেরানীগঞ্জ সমিতির এ পিঠা উৎসব। তিনি আরো বলেন, এটা শুধু একটি উৎসব নয়, এটা নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতার মাঝে নির্মল আনন্দের খোরাকও। নাগরিক ও ভোগবাদী সমাজের সংস্কৃতিতে এই উৎসব আবহমান বাংলার সংস্কৃতির চিরন্তন উপাদান তুলে ধরার এ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এ উৎসব প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছিলো নাচ, গান, আবৃত্তি ও পথনাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।