• আজ মঙ্গলবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলো বাংলাদেশের তাকরীম

তাকরীম
❏ শনিবার, মার্চ ১২, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিযোগী হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীম প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে এনেছেন।

ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্দিশাহ (আল-ফিকির) হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৩৮তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর শিক্ষার্থী সারাবিশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগীতা গত শনিবার (০৫ মার্চ) পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইরানের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মাদ মাহদী ইসমাইলী, শিক্ষা মন্ত্রী ইউসুফ নুরী ও ইসলামীক দাওয়া সেন্টারের প্রধান সৈয়্যদ মাহদী খামুশীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ।

জানা গেছে, এবারের আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ২৯টি দেশ থেকে নির্বাচিত ৬২ জন প্রতিযোগী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্য থেকে ১০ বিভাগে ৩০ জনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০টি ক্যাটাগরিতে পুরুষ ও নারী বিভাগে মোট ৩০ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ছেলে শাখার পুরো কোরআন হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশের প্রতিযোগী সালেহ আহমদ তাকরীম।

হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদরাসার শিক্ষার্থী। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ভাদ্রা গ্রামে। তার বাবা হাফেজ আব্দুর রহমান মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।

গত বছরের ২২ আগস্ট ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয় তাকরীম। এরপর পর্যায়ক্রমে ইরান আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার প্রথম দুই বাছাই পর্বে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উড্ডীন করতে সক্ষম হয়।

ছেলের এই বিশ্বজয়ের কৃতিত্বে হাফেজ আব্দুর রহমান শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জে ছিল। নদীতে বাড়ি-জমি ভেঙে গেলে টাঙ্গাইলের বাড়ি করি। তবে তাকরীম আমার সঙ্গে সাভারে থাকত। সেখানে আমার তত্ত্বাবধানেই সে হাফেজ হয়। কুরআনের আয়াত অন্তরে গেঁথে নেয় খুব সহজেই। মাত্র সাড়ে ৯ বছর বয়সে সে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত করে ফেলে। পরে তাকে মিরপুরের মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদ্রাসায় ভর্তি করি। সেখানেও সে সাফল্যের সঙ্গে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমি তাকে একজন দীনদার আলেম হিসেবে তৈরি করতে চাই, যাতে ইসলামের খেদমত করতে পারে সঠিকভাবে। এখন সে কিতাব বিভাগে পড়াশোনা করছে।’

এদিকে হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরীমের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত তার মাদ্রাসা মারকাযু ফয়জিল কুরআনের শিক্ষকরা।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খতিব মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, আমরা আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি ও দেশবাসীর কাছে হাফেজ তাকরীমের জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ তায়ালা অসাধারণ মেধা দিয়েছেন তাকরীমকে। হিফজ বিভাগের পাশাপাশি কিতাব বিভাগেও ঈর্ষণীয় সাফল্য তার।

উল্লেখ্য, হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় দেশের মাটিতেই চমক দেখিয়েছিলেন হাফেজ তাকরীম। ২০২০ সালের রমজান মাসে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আয়োজিত হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় সে। হাফেজ তাকরীম জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশু ক্কারি।