🕓 সংবাদ শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে টিআইবিচাকরি গেল প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের, ফেরত দিতে হবে বেতনওস্বর্ণ গায়েব করে চাকরি হারালেন এসপিখালেদা জিয়া ও বিএনপির জন্য পদ্মা সেতুর নিচে নৌকা রাখা হবে: শাজাহান খানশেখ হাসিনার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করাও সম্ভব নয়: খাদ্যমন্ত্রীচট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশসহ তিনজন নিহততরুনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিতেন পুরুষ ছদ্মবেশী এই তরুণী!অচিরেই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসার আহবান জানানো হবে: সিইসিসঠিক তথ্য পেতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরটিকটক ভিডিও বানাতে নদীতে ঝাঁপ দেবার ঘণ্টা দেড়েক বাদে উদ্ধার হল কিশোরের মৃতদেহ

  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

আজকের শিশুরাই হবে সোনার বাংলার আগামী দিনের কর্ণধর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Gopalgonj news
❏ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৭, ২০২২ জাতীয়

মেহেদী হাসানাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুদের জন্য একটা সুন্দর ভবিষ্যত আমরা গড়ে যেতে চাই। এজন্য আমি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনাও করে দিয়েছি।আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি।এই মর্যাদা ধরে রেখে আগামী দিনে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। এটা হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। আর আজকের শিশুরাই হবে সোনার বাংলার আগামী দিনের কর্ণধর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। এই মাটির ধূলামাটি মেখে হেসে খেলে বড় হয়েছেন। এই মাটি থেকেই শিখেছেন মানুষকে ভালবাসতে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। মানুষের জন্য তিনি কিভাবে একটি উন্নত জীবন দিবেন এই শিক্ষাটাও তার এই মাটির থেকে পাওয়া। আবার এই মাটিতেই তিনি চীরনিদ্রায় শায়িত। তারই নেতৃত্বে পেয়েছি আমার স্বাধীনতা, পেয়েছি আত্মমযার্দা, পেয়েছি আত্মপরিচয়, পেয়েছি একটি রাষ্ট্র। আমি আজকে জাতির পিতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধির সৌধের ১নং গেটে আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মবার্ষিকী, জাতীয় শিশু দিবস ও মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমি জানি না কি অপরাধ ছিলো তার।এই দেশকে ভাল বেসেছিলেন আমার বাবা। দেশের মানুষকে ভাল বেসেছিলেন। এই দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।যেন এদেশের মানুষ ভবিষ্যতে উন্নত জীবন পায়। সেই আকাংখা নিয়ে তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের জন্য।

সকল শিশুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তিনি শিশুদেরও গভীরভাবে ভাল বাসতেন। এদেশের অগনিত শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে গিয়ে তিনি যে জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন কিন্তু সেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।শিশুদের জাতির পিতা অত্যান্ত ভালবাসতেন।আর ভালবাসতেন বলেই আমরা ১৭ মার্চকে শিশু দিবস হিসাবে ঘোষনা দেই। কারন শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার পরপরই যে সংবিধান দিয়েছিলেন সেই সংবিধানে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করে ছিলেন। এছাড়া শিশু অধিকার আইনও তিনি করে দিয়েছিলেন। সেই সাথে শিশুদের সুরক্ষার জন্য কেয়ার এ্যান্ড প্রটেকশন সেন্টার যা বর্তমানে সারকারি শিশু পরিবার নামে পরিচিত সেটা তিনি প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, মাত্র সাড়ে ৩ বছরের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনই ঘাতকের বুলেটের নির্মম আঘাত। আমি আর আমার ছোট বোন রেহানা বেঁচে গিয়েছিলাম। স্বজনহারা ব্যথা বুকে নিয়ে এদেশে রিফুজিদের মতো কাটাতে হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি ফিরে এসেছিলাম।সে অবস্থায় ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী আলবদর, রাজাকারদের রাজত্ব ছিলো। তারপরও আমি ফিরে এসেছিলাম আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য।এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। এদেশের শিশুদের আগামী দিনে আমাদের মত স্বজনহারা বেদনা নিয়ে বাঁচতে না হয়। তারা যেন সুন্দর জীবন পায়, উন্নত জীবন পায়।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, শিক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলেন। জাতির পিতার পদাংক অনুসারে ১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখনও আমরা শিশুদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পরি, পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য প্রতিটি এলাকায় স্কুল তৈরী করে শিক্ষার ব্যবস্থা করি। জাতির পিতার মত আমরাও অনেক স্কুল জাতীয়করণ করি। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি তখন অনেক গুলো কাজ করে গিয়েছিলাম।যাতে শিশুদের জীবনটা সুরক্ষিত হয়। আমরা জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০, পারিবারিক সংহিংসতা প্রতিরোধ আইন ২০১০, জাতীয় শিশু নীতি ২০১১, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য প্রতিবন্ধী অধিবার সুরক্ষা ২০১৩, নারী ও শিশু প্রতিহিংসা প্রতিরোধ ২০১৩-২৫ মেয়াদে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করি। সেটা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আইন ২০১৮, বাল্য বিবাহ নিয়ন্ত্রণ জাতীয় পরিকল্পনা ২০১৮-৩০ পযর্ন্ত আমরা পরিকল্পনা করেছি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন আইন ২০৩০ আমরা প্রনয়ণ করেছি। শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে সেজন্য মিড ডে মিল ও টিফিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শতভাগ শিশু যাতে স্কুলে যায় সে পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি। করোনা ভাইরাসের সময় স্কুল বন্ধ ছিল আল্লাহর রহমতে এখন সব স্কুল খুলে গেছে। কাজেই এখন স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ আবার এসেছে। কোন রকম যেন তারা বঞ্চিত না হয় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

শিশুদের খেলাধূলার আগ্রহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরী করে দিয়েছি। সেখানে শিশুরা খেলাধূলা করতে পারবে, প্রতিযোগীতা করতে পারবে। আন্ত:স্কুল খেলাধূলা প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যবস্থা করা হয়েছে।যাতে শুরু থেকেই তারা নানা ধরনের শিক্ষা পেতে পারে সেই ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে, সুন্দর জীবন পাবে।

উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতা শিশুদের খুব ভাল বাসতেন। আমার ছেলে জয়ের সৌভাগ্য হয়েছে আমার বাবার কোলে চোড়ে খেলাধূলা করতে। তিনি যখন বাচ্চাদের সামনে যেতেন তখন মনে হতো তিনিও একটা শিশু। এটা ছিল তার চরিত্রের সবচেয়ে বড় একটা দিক। দূর্ভাগ্য ৭৫-এ শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ পায়নি। কারবালার ময়দানেও এমন ঘটনা ঘটেনি, শিশু নারীদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু এই বাংলার মাটিতে যাদের জন্য আমার বাবা জীবন উৎসর্গ করেছেন, বছরের পর বছর কারাগারে ছিলেন, জাতি হিসাবে মর্যাদা দিয়েছেন সেই বাঙ্গালীদের হাতে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টের সবচেয়ে দু:খের।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে আমরা জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী শুরু করেছিলাম। যে অনুষ্ঠানগুলো করার কথা ছিলো সেভাবে করতে পারিনি। করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবের কারনে আমরা সবকিছু ভার্চুয়ালী করেছি। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করেছি। ২০২২ সালের ১৭ মার্চ আমরা মুজিব বর্ষ উদযাপন করছি। ২৬ মার্চ পযর্ন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। ২১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পযর্ন্ত সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ মাঠে লোকজ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১, ২০৭১ আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবো। সেই সাথে ১০০ সাল পযর্ন্ত বাংলাদেশ কিভাবে উন্নত হবে সেই পরিকল্পনাও আমি প্রনয়ণ করে দিয়ে দিয়েছি।

বিকাল তিনটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং শিশুদের পক্ষে শেখ মুনিয়া ইসলাম বক্তব্য রাখেন। পরে আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এরআগে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শ্রদ্ধা জানান। এসময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বেজে ওঠে বিগউলের সুর। পরে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের শহীদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লক্ষ শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত মন্তব্য বহিতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের নেতৃবৃন্দকে সাথে দলের প্রধান হিসাবে এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। পরে রাষ্ট্রীয় কর্মসুচী শেষ করে হেলিকাপ্টার যোগে বেলা ১২ টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন।

এ অনুষ্ঠানে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তোফায়েল আহম্মেদ এমপি, মতিয়া চৌধুরী এমপি, আব্দুর রাজ্জাক এমপি, শিক্ষা মন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, শাহজাহান খান এমপি, বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, আবুল হাসনাত আব্দুলাহ এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ এমপি, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি-সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, সাবেক সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, মজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈমসহ নেতার্মীরা উপস্থিত ছিলেন।