• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে হবিগঞ্জ স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়

ঘোড়দৌড়
❏ শুক্রবার, মার্চ ১৮, ২০২২ সিলেট

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সময়ের বিবর্তনের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ জনপদের অন্যতম বিনোদন ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

মাঝেমধ্যে এখনও গ্রামীণ জনপদে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও শহর এলাকাগুলো এই প্রতিযোগিতা নেই বললেই চলে।

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামে এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়ের খবর শুনে স্টেডিয়াম পাড়ায় জড়ো হয় হাজারো নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী।

এবারের ব্যতিক্রমধর্মী এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতায় অংশ নেয় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ১৫টি বিভিন্ন নামের ঘোড়া। হবিগঞ্জ আধুনিক স্টেডিয়ামে ৫ রাউন্ড খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন হয় জেলার নবীগঞ্জ থেকে আসা ‘শাহ জালালের দোয়া’ নামে ঘোড়াটি। যার মালিক আলাল মিয়া। আর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে একই এলাকার দিলকাছ মিয়ার ঘোড়া ‘মায়ের আদেশ’।

তৃতীয় স্থান অধিকার করে মাধবপুর উপজেলার বাবুল মিয়ার ঘোড়া ‘রঞ্জিত’।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি তুলে দেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহানসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতারা।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুউল্ল্যাহ, হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম, হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ।

এর আগে ফিতা কেটে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান।

তিনি বলেন, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের একটা প্রাণের খেলা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সাধারণ মানুষদের বিনোদন দিতেই ব্যতিক্রমী এ খেলার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি আগামীতে আরো বড় পরিসরে এ খেলার আয়োজন করতে পারব।

ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা এখন আর হয় না। আধুনিকতার কারণে এ খেলাটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে শহরে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হবে আমরা কখনো ভাবতে পারিনি। আমরা ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করছি। তবে তারা প্রতি বছরই যেন এ খেলার আয়োজন করা হয় সে জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

চ্যাম্পিয়ন ঘোড়ার মালিক আলাল মিয়া জানান, এখনও ঘোড়দৌড়ের খবর শুনলে মাঠে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। এটা আমাদের বাঙালি ঐতিহ্যের একটি অংশ। তাই খেলাটির প্রচলন আমাদেরকেই ধরে রাখতে হবে।