🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

দুর্বৃত্তদের এলোপাথাড়ি গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ কলেজছাত্রী নিহত


❏ শুক্রবার, মার্চ ২৫, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

নিহত দুজন হলেন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪) ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি (১৮)। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হলেন টিপুর গাড়িচালক মুন্না (২৪)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমতলী পানামা ভবনের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তরা মাইক্রোবাসে থাকা টিপুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় প্রীতি রিকশায় করে যাচ্ছিলেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ টিপু, প্রীতি ও মুন্নাকে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই টিপু ও প্রীতির মৃত্যু হয়েছে। মুন্নাকে তাত্ক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয় জানিয়ে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, জাহিদুল ও সামিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আবদুল আহাদ বলেন, টিপুর গাড়িতে আরো কয়েকজন ছিলেন। গাড়িটি যানজটে পড়েছিল। তখন রাস্তার বিপরীত দিক থেকে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত টিটুর গাড়ির জানালা দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে ওই হেলমেট পরা দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।

কেন এই হত্যাকাণ্ড, পুলিশ তার তদন্ত শুরু করছে জানিয়ে আহাদ বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। এতে একাধিক দুর্বৃত্ত জড়িত থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই রাতে গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ড নামের একটি বিপণিবিতানের সামনে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় মিল্কীর ছোট ভাই রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে গুলশান থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার আসামি ছিলেন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু (গত রাতে নিহত)। পরে তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। তখন তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। টিপু হত্যার নেপথ্যে মিল্কী হত্যার ঘটনার সম্পৃক্ততা আছে কি না তার তদন্ত চলছে।

ঢামেক হাসপাতালে নিহতের স্বজনরা জানায়, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি।

টিপু সম্পর্কে আরো জানা যায়, মিল্কী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন তিনি। জামিনে বের হয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন না। স্ত্রী ডলি কাউন্সিলর হলে তাঁর মাধ্যমেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। একসময়ের দাপুটে নেতা টিপুকে হত্যার জন্য পরিকল্পিতভাবেই হামলা করা হয় গাড়িতে। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে অন্তত ১০-১২ রাউন্ড গুলি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি ১১টি গুলির খোসা পেয়েছে।

কারা, কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি স্বজনরা। পুরনো রাজনৈতিক বিরোধেই এ ঘটনা বলে মনে করছে তারা।

কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি দুর্ঘটনাবশত হত্যার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ। টিপু হত্যা নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হলে এতেই রিকশাযাত্রী প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি আহাদ বলেন, তদন্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। হত্যাকাণ্ডটি অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত মনে হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম শাহজাহানপুর আমতলা কাঁচাবাজার থেকে বাজার করে মাইক্রোবাসে বাসায় ফিরছিলেন। গাড়িটি শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে জাহিদুল ও তাঁর গাড়িচালক মুন্না আহত হন। তাঁদের শরীরে একাধিক গুলি লাগে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, টিপু সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুর্বৃত্তরা জাহিদুলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে রিকশাযাত্রী প্রীতিও গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক মুন্না হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি টিপুকে নিয়ে এজিবি কলোনি থেকে শাহজাহানপুর বাগিচা এলাকার বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় যানজটে পড়লে হঠাৎ মুখোশ পরা এক ব্যক্তি তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

নিহত প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া বলেন, ঘটনার সময় তাঁরা দুজন শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় রিকশায় ছিলেন। হঠাৎ কোথা থেকে গুলি এসে প্রীতির শরীরে বিদ্ধ হয়। এ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী ছিলেন।

হাসপাতালে নিহত টিপুর স্বজন মেরাজউদ্দিন মেরাজ বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন প্রাইভেট কারে করে শাহজাহানপুর এলাকায় পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়। ’

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, টিপু ও প্রীতি গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত (রাত ১২টা) কাউকে আটক করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তবে কেন, কী কারণে টিপুর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। তবে স্বজনদের একজন বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে টিপুর মৃত্যুর খবর শুনে গত রাতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ঢাকা মেডিক্যালে জড়ো হন। সেখানে থাকা ঢাকা দক্ষিণের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুনুর রশীদ শুভ্র সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি, উনি বাসায় ফিরছিলেন নিজের গাড়িতে। গাড়িটি জ্যামে পড়েছিল। তখন কিছু যুবক এসে গুলি চালায়। উনার (টিপু) গায়ে ৯টি গুলি লাগে। ’

নিহত প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া আকতার ঢাকা মেডিক্যালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রীতির বাসা মালিবাগে। সে তিলপাপাড়ায় তার বাসায় আসছিল। তাকে এগিয়ে আনতে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় গিয়ে তার সঙ্গে রিকশায় উঠি। দুজনে একসঙ্গে আসার সময় এই ঘটনা। ’