• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

দইয়ের বক্সে ইউপি চেয়ারম্যানকে সাপ উপহার! দেখে অজ্ঞান সহকারী

সাপ উপহার
❏ মঙ্গলবার, মার্চ ২৯, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ কাইমুদ্দিন মন্ডলকে বাক্সবন্দি সাপ উপহার পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। সাপটি লম্বায় ৮ হাত। কেউ বলেন দাঁড়াশ সাপ। আবার অনেকেই বলেন গোখরা সাপ।

সোমবার (২৮ মার্চ) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে উপজেলার গজারিয়া বাজারে চেয়ারম্যানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

চেয়ারম্যানের স্টার্ফ (কর্মচারী) শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, বিকালের দিকে বয়স্ক একজন ভ্যানচালক কাগজের কার্টুনটি এনে বলেন, এটি চেয়ারম্যান সাহেবের উপহার আমার কাছে একজন পাঠিয়েছেন। আপনারা এটি রাখেন। উপহারের কার্টুনের উপরে লেখা দই। আমি ও আমার আরেক সহযোগী বাবুল শেখ মিলে কার্টুনটি খুলে সাপ দেখতে পাই। এসময় বাবুল সাপ দেখে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক পাশেই ভ্যানষ্ট্যান্ডে ওই ভ্যান চালককে দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হয়। ভ্যানচালক জানান, রামনগর ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারের কিটনাশকের একটি দোকান থেকে কার্টুনটি আমাকে দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন ভ্যানচালককে সাথে নিয়ে গোপালপুর বাজারে গিয়ে ওই ব্যাক্তিকে খুঁজে পান। তার নাম জরুরউদ্দিন বেপারী। তিনি গোপালপুর গ্রামের আদেল উদ্দীনের ছেলে। পরে তাকে ধরে এনে গজারিয়া বাজারে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাইমুদ্দিন মন্ডল বলেন, আমি দুপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। আমার স্টাফ শ্যামল কুমার আমাকে মোবাইলে জানান, আপনার একটা উপহার এসেছে। বাক্সের উপর দই লেখা। আমি তখন তাকে খুলে দেখতে বলি। পরে জানতে পারি তার মধ্যে সাপ। ভ্যানওয়ালাকে নিয়ে পরে ওই লোকের সন্ধান পাওয়া যায়। তাকে ধরে আনা হয়।

তবে কেন কি কারণে সে এমন কাজ করেছে স্বীকার করেননি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোন থানার পুলিশ তা তিনি বলতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, আমার তেমন কোন শত্রু নেই। কিন্তু কেন যে সে এমন কাজ করলো আমি বুঝে উঠতে পারছি না।

এ ব্যাপারে নগরকান্দার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিল হোসেন বলেন, ঘটনা শুনেছি। ওটা কি সাপ ছিল কি-না তা জানিনা। শুনেছি দাঁড়াশ সাপ। মরা সাপ।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ জলিল বলেন, এ রকম ঘটনা শুনেছি। কিন্তু ওই এলাকাটা আমার মধ্যে নয়। নগরকান্দা থানার মধ্যে। তারপরও আমি আবার বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি।