• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে, সেই স্কুলশিক্ষিকা বরখাস্ত

স্কুলশিক্ষিকা
❏ মঙ্গলবার, মার্চ ২৯, ২০২২ খুলনা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় দশম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় বরের মা অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন্নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, নিজ ছেলের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে আমার নজরে আসে। এরপর সোমবার সকালে সরেজমিনে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষিকা শামসুন্নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূইয়া বলেন, ‘একজন সহকারী শিক্ষক তার ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে নিজের স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বিয়ে দিয়ে কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছেন।

‘তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। আজ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে শুনেছি। কিন্তু আদেশ এখনও আমি হাতে পাইনি।’

গত ২০ মার্চ সদর উপজেলার ছোটশলুয়া গ্রামের বিলপাড়ার অসোক আলীর মেয়ে শারমিনের সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ে হয়। শিক্ষক শামসুন নাহার উপস্থিত থেকে নিজের ছেলের বিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন গোপন থাকলেও সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয় বর শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে।

সরেজমিনে বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, মেহেদি রাঙা হাতে ক্লাস করছেন শারমিন খাতুন। বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ‘এক সপ্তাহ আগে ম্যাডামের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে জামাই আমাদের বাড়িতে আছে। আমি বাড়িতে এসে স্কুলে ক্লাস করছি।’

এ সময় ক্লাস নিচ্ছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা শামসুন্নাহার। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে নিজের ছেলের বাল্যবিবাহ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ির অবস্থা খুব একটা ভালো না। বিশেষ করে আমার মায়ের খুব শরীর খারাপ। মায়ের ইচ্ছা নাতি ছেলের বউ দেখার। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই ছেলের সঙ্গে ছাত্রীর বিয়ে দিয়েছি। তবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়নি।