• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

রাজধানীর ফুটপাত দখল করে কোনো হকার বসতে পারবে না : এডিসি তৈমূর

MIrpur ADC news
❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১২, ২০২২ Uncategorized

রাজু আহমেদ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এ.জেড.এম তৈমুর রহমান বলেছেন,বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মহোদয় স্যারের নির্দেশ- রাজধানীর ফুটপাতগুলো দখল করে কোনো দোকানপাট থাকতে পারবেনা।

রাজধানীর যানযট নিরসন, সৌন্দর্য রক্ষা,নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মহাপরিদর্শক মহোদয়ের দেওয়া ১৩ টি গঠনমূলক নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম একটি নির্দেশনা হচ্ছে রাজধানীর মূল সড়ক ও ফুটপাতগুলো দখল করে সৃষ্ট জনদূর্ভোগ নিরসন ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীতে মূল সড়কসহ ফুটপাতগুলো দখল করে সৃষ্ট জনদূর্ভোগ লাঘব ও চাঁদাবাজি বন্ধে করনীয় বিষয়াবলিকে সামনে রেখে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ্ আলী থানা ও মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সমন্বয়ে আয়োজিত বিট পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় এডিসি তৈমুর আরো বলেন,নির্দেশনা পালনে সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, মার্কেট ও ভবন মালিক,বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি ও হকার্স সমিতির নেতাকর্মী ও হকারদের নিকট ম্যাসেজটি পৌছে দিতেই আজকের বিট পুলিশিং সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মকবুল হোসেন বলেন,ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বিশৃঙ্খলভাবে হকারদের দোকানপাট বসানোর কারনে প্রায়শঃই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শেষ করে চলে যাবার পরমূহুর্তেই ফের পূর্বের অবস্থানেই ফিরে আসে। পুলিশ জোড়ালোভাবে উচ্ছেদ অভিযান অব্যহত রাখলে এমনটি কখনোই হতে পারতো না।

এসময় মার্কেটটির দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা দেলোয়ার হোসেন বলেন,আমরা লক্ষ কোটি টাকা মূলধন খাটিয়েও ব্যবসায়িক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মার্কেটের চারপাশজুড়ে বিশৃঙ্খলভাবে অসংখ্য হকাররা বসে। ফলে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা না পাওয়ার কারনে কোনো ভিআইপি কাষ্টমারগণ মার্কেটের ভেতরে ঢোকেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও।

এসময় ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন,ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে পান থেকে চুন খসলেই কিছু মহল পুলিশের দিকে আঙ্গুল তোলেন। দায়ী করেন পুলিশকেই। সত্যিকার অর্থে এদায় শুধুমাত্র পুলিশের একার নয়।

এসময় সহকারী পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান মার্কেট মালিক-পরিচালক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,সন্ধ্যার পর রাজধানীর সকল মার্কেট বন্ধ থাকে। অথচ হাজার হাজার বাতি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত দিব্যি দোকানপাট খোলা রেখে বেচাকেনা করেন হকাররা। মার্কেট/ভবন মালিক-পরিচালকদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে তারা এই বিদ্যুৎ সংযোগ পায় কিভাবে? সুতরাং শুধুমাত্র পুলিশ নয়;এসমস্যা নিরসনে পুলিশের সাথে সাথে মার্কেট/ভবন মালিক-পরিচালক, ব্যবসায়ী সমিতির নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

এসময় শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন,আমি নিয়মিত ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে থাকি। এসময় স্থানীয় বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গের ফোনও আসে আমার কাছে। সুতরাং আমাদের বুঝতে বাকি থাকে কে বা কারা ফুটপাত দখলের সাথে সম্পৃক্ত। আমার কাছে এমন অভিযোগও আছে,ফুটপাতে হকারদের বসতে দিয়ে তাদের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা নিয়েছেন মার্কেট পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তি। সুতরাং ফুটপাত উচ্ছেদ করারা মতো কঠিন কাজটি পরিপূর্ণ সফলভাবে করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের উচিত একত্রিত হয়ে একাজে আন্তরিকভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করা।

আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের চারপাশ ও হযরত শাহ আলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের আশপাশজুড়ে ফুটপাতের কয়েক শতাধিক দখলদ্বারদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। পর্যায়ক্রমে শাহ্ আলী থানাধীন সকল ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানা ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান।

এসময় মার্কেটগুলোর দোকান মালিক,পরিচালনা পরিষদ,স্থানীয় নেতাকর্মীরাসহ স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।