• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

ওবায়দুল কাদেরের আসন চান আ.লীগের একরামুল


❏ শনিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২২ ফিচার

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আসন নোয়াখালী-৫ আসনে ও দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

একরাম চৌধুরী বলেন, আমার বাড়ি কবিরহাট এ জন্য আমি অনেক বেশি গর্ব বোধ করি। এটা আমার হৃদয়। কবিরহাটের মানুষ আমাকে ও আমার কথায় ভোট দিয়েছেন। আপনারা কিন্তু কবিরহাটের মানুষকে সে সম্মান দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত কি হবে আমি জানি না। তবে যদি আপনারা চান। আমি নোয়াখালী-৪ নোয়াখালী-৫ দুই আসন থেকে নমিনেশন চাইবো।

জননেত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দিবেন। আমার মনে ইচ্ছে আমার নিজ এলাকার আপনারা আমাকে ভালোবাসেন আমিও এলাকার মানুষকে ভালোবাসি। আপনাদেরকে ভালোবাসার জন্য দিছি। কই আপনারা ভালোবাসা দিচ্ছেন না। আপনারা যদি আমাকে নমিনেশন নেওয়ার জন্য অনুমতি দেন তাহলে আমাকে হাত তুলে দেখান।

এমপি একরাম আরও বলেন, নিজ স্বার্থে যারা মিথ্যা কথা বলে বক্তৃতা দেয়। আমি মনে করি তাদের কাছে আর কবিরহাটের মানুষ যাবে না। যে লোক আমার সামনে বসত না। সে লোক অসংখ্য বিশ্রী বিশ্রী কথা বলে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহান, কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিউলী, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিন বিএসসিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

একরামুল ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত ডিসেম্বরে বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের সময় তার সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার বিরোধের বিষয়টি বারবার সামনে আসে। কাদের মির্জার অভিযোগ ছিল, একরামুল সন্ত্রাসী পোষেণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত, তাকে হারানোর চেষ্টা করছেন।

দুই পক্ষে নানা বাদানুবাদ সে সময় গণমাধ্যমের মুখরোচক সংবাদ হয়ে আসত, যদিও ভোটে কাদের মির্জার জয়ের পর সেসব আর আসেনি। পরে বিরোধটা কাদের বনাম এরকামুলে গিয়ে ঠেকেছে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নোয়াখালী জেলা কমিটি ভেঙে দেয়া হয়, গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। এই নির্দেশ গেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে আর এর পেছনে একরামুল দায়ী করেন ওবায়দুল কাদেরকে।

জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করা হয়েছে আ ন ম খায়রুল আনম সেলিমকে, যার সঙ্গে একরামুলের বিরোধ আছে আগে থেকেই। এই কমিটিতে একরামুলকে করা হয়েছে সদস্য।

একরামুল বলেন, ‘কবিরহাটের মানুষ আমাকে নেতা বানিয়েছে। আমার কী অপরাধ। আমাকে এভাবে অপমানজনকভাবে সরান হলো।

‘আমি নাকি ২৬টা খুন করছি, আমার ছেলে নাকি অস্ত্র নিয়ে চলে। কে এটা বলছে আমি বলতে চাই না। অথচ এ দেশে বিচার নেই।

‘কাদের ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমি যেহেতু আওয়ামী লীগ করি, আমি মাইকের সামনে কিছু বলব না। কিন্তু আমার প্রশ্নটা হলো, আপনার স্ত্রীকে যে অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলা হইছে, এটার বিচারও কি বাংলাদেশের মানুষ পাবে না?