🕓 সংবাদ শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে টিআইবিচাকরি গেল প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের, ফেরত দিতে হবে বেতনওস্বর্ণ গায়েব করে চাকরি হারালেন এসপিখালেদা জিয়া ও বিএনপির জন্য পদ্মা সেতুর নিচে নৌকা রাখা হবে: শাজাহান খানশেখ হাসিনার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করাও সম্ভব নয়: খাদ্যমন্ত্রীচট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশসহ তিনজন নিহততরুনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিতেন পুরুষ ছদ্মবেশী এই তরুণী!অচিরেই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসার আহবান জানানো হবে: সিইসিসঠিক তথ্য পেতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরটিকটক ভিডিও বানাতে নদীতে ঝাঁপ দেবার ঘণ্টা দেড়েক বাদে উদ্ধার হল কিশোরের মৃতদেহ

  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

ঈদকে সামনে রেখে সরগরম সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লী

সরগরম
❏ রবিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২২ দেশের খবর, রাজশাহী

সিরাজুল ইসলাম শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘ দুই বছর করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আবার কর্মমুখর হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁত পল্লীগুলো। দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক ও শ্রমিকরা। গত বছর করোনার বিধি নিষেধের কারণে তাঁত মালিকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন তাঁত পল্লীতে তৈরি হচ্ছে আধুনিক মানের জামদানি, সুতি জামদানি, সুতি কাতান, বেনারসি ও বিভিন্ন ধরনের লুঙ্গি। এ অঞ্চলের তাঁতপল্লিগুলোতে তৈরি উন্নতমানের শাড়িসহ বিভিন্ন কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঢাকার বড় বড় বুটিক হাউসগুলো তাদের পরিবেশকের মাধ্যমে কানাডা, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাঁতের কাপড় বাজারজাত করছে।

গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদা অনেক বেশি বলে জানান তাঁত মালিকেরা। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জেলায় এবার তাঁত বস্ত্র বিক্রির পরিমাণ দেড়শ থেকে ২শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালি, উল্লাপাড়া, সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন লক্ষাধিক তাঁত কারখানা ছিল। তবে করোনার কারণে পুঁজি সংকটে অনেক তাঁত কারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে। এই সব তাঁত কারখানায় গত ২ বছর ধরে মন্দাভাব ছিল, কিন্তু রোজর ঈদকে সামনে রেখে সেই মন্দা ভাব ইতিমধ্যেই কেটে গেছে।

সরেজমিনে তাঁতপ্রধান এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, তাঁত পল্লীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারখানা মালিক ও শ্রমিকরা। বসে নেই নারীরাও। পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নলী ভরা, সুতা পারি করা, মাড় দেওয়াসহ কাপড় বুননের কাজে সহযোগিতা করছেন নারী শ্রমিকরা।

হাফ সিল্কের ওপর ঝুটের মনোমুগ্ধকর নকশা। কাপড় খুললেই স্বর্ণের মতো ঝলমল করে ওঠে, এমন একটি শাড়ির নাম রাখা হয়েছে- স্বর্ণলতা। শাড়িটি ইতোমধ্যেই ক্রেতাদের মন কেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে এর দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়াও জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর ও এনায়েতপুরের খুকনী এলাকার তৈরি বেনারসি এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তাঁত মালিক পারভেজ আলী জানান, গত দুই বছর করোনার কারণে কোনো ব্যবসা ছিল না। এবার আবার ব্যবসা শুরু হয়েছে। আশা করি, করোনার ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যাবে।

বেলকুচি উজ্জাল অধিকারী নাম এক ব্যবসায়ী জানান, করোনার প্রভাব অনেকটা কেটে যাওয়ায় বড় বড় কাপড়ের কোম্পানিগুলো সোহাগপুর, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের তাঁতশিল্প প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দফায় দফায় সুতা, রং ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ার কারণেই কাপড়ের দাম বেড়েছে।

বসুন্ধরার রাজরানী টেক্সটাইলের আব্দুল্লাহ জানান, দীর্ঘ দুই বছর চরম মন্দার পর ঈদ সামনে রেখে কাপড়ের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা অগ্রিম টাকা দিয়ে তাঁতিদের বাড়ি থেকে কাপড় নিয়ে যাচ্ছেন।

সুতা ব্যবসায়ী আহমেদ আলী বলেন, তুলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও সুতার দাম বাড়ছে। তাছাড়া সুতার দাম নির্ধারণ করে দেন মিল মালিকেরা। আমাদের বেশি দাম দিয়ে মিল থেকে সুতা কিনতে হয়।

তাঁত শ্রমিক আলী হাসান, বাবু ও হায়দার আলী বলেন, আমরা যে পরিমাণ পরিশ্রম করে তাঁতের কাপড় বুনাই সে অনুযায়ী মজুরি পাচ্ছি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ৭ দিনে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা মজুরি পাই। বাজারে কাপড়ের দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি। ঈদ সামনে রেখে বাড়তি রোজগারের আশায় রাতদিন কাজ করছি।

জ্যোতি শাড়ির মালিক ও বেলকুচি উপজেলা হস্ত এন্ড পাওয়ার লুম এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বৈদ্যনাথ রায় জানান, করোনা কাটিয়ে এ বছর তাঁত কারখানাগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রচুর অর্ডার আসছে। ইতিমধ্যেই বাইরের পাইকাররা এখানে এসে অর্ডার দিচ্ছেন। এতে করে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। এ বছর মন ফাগুন, অনুরাগের ছায়া, কনক, লালপরী, স্বর্ণলতা ইত্যাদি নামে নতুন শাড়ি বাজারে এনেছেন বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুরের তাঁতিরা।

সিরাজগঞ্জ তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ এমএ বাকী বলেন, কারোনার কারণে আমাদের অনেক তাঁতী লোকসানে পড়ে ব্যবসা ছেড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুতা, রং ও তাঁত উপকরণের অব্যাহত মূল্যবদ্ধির ফলে আর ভারতীয় শাড়ির কারণে তাঁত শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অনেক তাঁতিই পুঁজি সঙ্কটে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। তবে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় এই তাঁতশিল্পে আধুনিক মানের ডিজাইন আসায় আবার প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। এ বছর জেলায় দেড়শ থেকে দুইশ কোটি টাকার তাঁত পণ্য বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।