ভিডিও দেখেই টাকা ইনকামের ফাঁদ, ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও কোম্পানির পরিচালক আটক


❏ সোমবার, এপ্রিল ১৮, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ‘১০ লাখ টাকা দিলে লভ্যাংশ হিসেবে দুই মাস অন্তর ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা একটি লিংকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে দেয়া হবে’- এমন প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১১ হাজার গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ কোটি হাতিয়ে নিয়ে তাদের সকল কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেবার অভিযোগ একটি অনলাইনভিত্তিক এমএলএম কোম্পানির বিরুদ্ধে ।

অভিযোগের ভিত্তিতে ভিশন ২০২৫ ডিজিটাল আইটি ওয়ার্ল্ড লি. কোম্পানির পরিচালক নাজমুল ইসলামকে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এসময় বিপুল পরিমাণ বুকলেট, গ্রাহকের বিকাশ লেনদেনের হিসাব, লিফলেট, চেকবই ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ করা হয় তার কাছে থেকে ।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস বলেন, সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ী থেকে নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

চক্রটি একটি অনলাইন সাইট খুলে সেখানে আইডি খোলার জন্য গ্রাহকদের বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেয়। এমএলএম ব্যবসার নিয়মে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের গ্রাহক বানালে কমিশন পাওয়া যাবে এবং তাদের কিছু গ্রোসারি পণ্য বিক্রয় করে দিলে কোম্পানি থেকে কমিশন পাবে বলে লোভ দেখিয়ে আসছিলো ।

র‌্যাব জানায়, সে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখায়। ১০ লাখ টাকা দিলে লভ্যাংশ হিসেবে দুই মাস অন্তর ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা একটি লিংকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয় কোম্পানিটি ।

র‍্যাব জানিয়েছে,  বর্তমানে তাদের লক্ষাধিক রেজিস্টার্ড গ্রাহক এবং প্রায় ১১ হাজার অ‌্যাকটিভ মেম্বার রয়েছে। গ্রাহকরা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কোম্পানির সদস্য হতে পারে। বর্তমানে গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা তাদের কাছ আটকে আছে।

তাদের এই ভুয়া কোম্পানির অফিস গত বছরের এপ্রিল মাসে মৌচাকে খোলা হয়। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর মাসে স্থায়ীভাবে অফিস বন্ধ করে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা টালবাহানা করতে থাকে।

এমনকি তারা গ্রাহকদের পাওনা টাকা দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এবং বাড়াবাড়ি করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও জীবননাশের হুমকি দেয়। এভাবে তারা ১১ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।