🕓 সংবাদ শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে টিআইবিচাকরি গেল প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের, ফেরত দিতে হবে বেতনওস্বর্ণ গায়েব করে চাকরি হারালেন এসপিখালেদা জিয়া ও বিএনপির জন্য পদ্মা সেতুর নিচে নৌকা রাখা হবে: শাজাহান খানশেখ হাসিনার চেয়ে বেশি উন্নয়ন করাও সম্ভব নয়: খাদ্যমন্ত্রীচট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশসহ তিনজন নিহততরুনীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিতেন পুরুষ ছদ্মবেশী এই তরুণী!অচিরেই বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসার আহবান জানানো হবে: সিইসিসঠিক তথ্য পেতে আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরটিকটক ভিডিও বানাতে নদীতে ঝাঁপ দেবার ঘণ্টা দেড়েক বাদে উদ্ধার হল কিশোরের মৃতদেহ

  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

প্রকল্পের টাকা ‘আত্মসাত’: কারামুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে রাজকীয় সংবর্ধনা

জানে আলম
❏ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২১, ২০২২ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলমকে সরকারি কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুদকের মামলায় জেল হাজতে পাঠিয়েছিল আদালত।

তবে ৮ দিনের মাথায় গতকাল হাইকোর্টের আদেশে ৬ সপ্তাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন আদেশ পেয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেছেন তিনি।

এদিকে দুদকের মামলায় কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর চেয়ারম্যান মোঃ জানে আলমকে রাজকীয় সংবর্ধনায় বরণ করে নিয়েছে দাতঁমারা ইউনিয়নবাসী।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকালে তিনি এলাকায় পৌঁছলে ফটিকছড়ির বিবিরহাট উৎসব কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে কয়েকশ মোটর সাইকেল নিয়ে তাঁর কর্মীসমর্থকেরা বরণ করে নেন।

এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, আমার শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত দাতঁমারাবাসীর সেবা করে যাব। মামলা হামলা করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। আমি দাতঁমারাবাসীর প্রতি চিরঋণী হয়ে গেলাম।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যানের এই রাজকীয় সংবর্ধনা নিয়ে পুরো ফটিকছড়ি উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলে যাওয়ার তকমা লাগালেও রাজকীয় সংবর্ধনা চেয়ারম্যান কিভাবে নিলেন, এমন প্রশ্ন তাদের। স্বয়ং দাঁতমারা ইউনিয়নের অনেক সাধারণ মানুষও বিব্রত বলে জানা যায়।

তথ্যমতে, গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া শুনানি শেষে চেয়ারম্যান মো. জানে আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন দুদকের পিপি অ্যাড. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি দায়ের করেন কার্যালয়টির সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন, দাঁতমারা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম, ফটিকছড়ির কৃষি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আজিজুল হক, একই ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সুজিত কুমার নাথ, ক্যাশিয়ার আবুল কাশেম ও তৎকালীন ট্যাগ অফিসার প্রণবেশ মহাজন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১ম ও ২য় পর্যায়ের মোট ৮০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি হারে ৪১ জন শ্রমিকের ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকল্পে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। তারা কেউই শ্রমিক নয় এবং সকলেই স্বাবলম্বী। তাদের মধ্যে স্কুল প্রধান শিক্ষক, পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ছিল। তারা কখনো কৃষি ব্যাংকে যান নাই কিংবা হিসাব খোলেননি এবং টাকাও উত্তোলন করেননি।

এরপর ২০২০ সালে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন তদন্ত করে ৪১ জন শ্রমিকের অর্থ আত্মসাতের দালিলিক প্রমাণ পাওয়ায় চেয়ারম্যানসহ বাকিদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুদক কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেন।

মামলা দায়েরের পর চেয়ারম্যান জানে আলম মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। হাইকোর্টের দেয়া আগাম জামিনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় চেয়ারম্যান জানে আলম জজ কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন তাকে।