কলেজছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় যুবকের ৪৪ বছর কারাদণ্ড

কারাদণ্ড
❏ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২১, ২০২২ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: কলেজ ছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণ ও আটকে রেখে ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত যুবককে পৃথক ধারায় ৪৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাব্যুনালের পিপি এ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, ২০১৯ সালের ২৪ আগস্ট সকালে জেলার নকলা উপজেলার হাজী জাল মামুদ কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও চিথলিয়া গ্রামের জনৈক আশরাফ আলীর কন্যা (১৬) কে কলেজে যাওয়ার পথে কৌশলে অপহরণ করে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার নয়নবাড়ি গ্রামের পরেশ তীলক দাসের ছেলে বাবুল তীলক দাস (২৭)। পরে ওই ছাত্রীকে গাজীপুরের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করতে থাকে। অপহরণের পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে একপর্যায়ে ৬ সেপ্টেম্বর নকলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন কলেজ ছাত্রী পিতা।

এদিকে অপহরণকারী যুবক বাবুল তীলক দাস মোবাইল ফোনে কলেজ ছাত্রীর বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবী। পরে মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে সনাক্ত করে ৮ সেপ্টেম্বর থানা পুলিশ ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নিরঞ্জন পাল চার্জশীট দাখিল করেন।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও অন্যান্য মিলে মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ধর্ষণ মামলায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং অপহরণরে দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। উভয় দণ্ড একইসঙ্গে কার্যকর হবে বলে জানায় আদালত সূত্র।