🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৯ বছর, বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীদের কর্মসূচি


❏ রবিবার, এপ্রিল ২৪, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বহুল আলোচিত সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির নয় বছর আজ রোববার। দুর্ঘটনার পর হত্যা মামলায় ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আর, ইমারত নির্মাণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি এখনও।

এদিকে, দিনটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন আহত শ্রমিক, হতাহতদের পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন। এখনও বিচার না পেয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তাঁরা। বিচারের দাবিতে ঘটনাস্থলে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শ্রমিকেরা।

দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে শোকাবহ দিনটি উপলক্ষ্যে রানা প্লাজার সামনে নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন করে নিহতদের স্মরণ এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, অন্যান্য দিনের মতোই কর্মচঞ্চল আলো ঝলমলে ছিল সেদিনটা। প্রতিদিনের মতই সাভারের রানা প্লাজার আটতলা ভবন জুড়ে ছিল কর্ম ব্যস্ততা। সকাল ৮:৪৫ মিনিট। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকট শব্দ আর প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে মুহূর্তেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভবনের কয়েকটি তলা মাটির নিচে চলে যায়। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। নিখোঁজ হন ১৮২ জন শ্রমিক। দেশের পোশাকখাতে স্মরনকালের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি সাভারের রানা প্লাজা।

রানাপ্লজার চতুর্থ তলায় আইরনম্যান হিসেবে কাজ করতেন মেহেরপুরের ছেলে ইমাদুল ইসলাম ইমদাত জানান, রানাপ্লাজা দুর্ঘটনায় ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তাকে। এরপর এ্যানাম মেডিকেলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখনও তার মানসিক চিকিৎসা চলছে। শরীরেও অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি এখন কাজ করতে চাই কিন্তু কেউ কাজ দেয় না।

তিনি জানান, ওই দিনের ভয়াবহতা আজও ঘুমাতে দেয় না। সেদিনের বিকট শব্দ, আর্ত চিৎকার আজও তার কানে বাজে। আজো কুঁকড়ে ওঠেন ওইদিনের কথা মনে করে। ঘুমালে মনে হয় বিল্ডিং ভাইঙ্গা পড়তাছে। রানাপ্লাজা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আহত ও নিহত যারা এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আহত অনেকেই কোন কাজ করতে পারে না। কাজ না থাকায় চিকিৎসাও করাতে পারছে না অনেকেই। তাই সরকারকে তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে।

ছেলেকে নিয়ে সাভারে থাকেন মোছাম্মত জেসমিন। ওইদিনের কথা বলতে গেলে আজও গা শিউড়ে ওঠে তার।

তিনি বলেন, ওইদিন যখন জ্ঞান ফিরছে তখন দেখি মাথা ব্যান্ডেজ করা। আমি হাসপাতালে। নড়তে চড়তে পারি না। ডাক্তার কয় আমার মেরুদণ্ডের হাড় ফাইটা গেছে। সেই থিক্যা আমি অসুস্থ। খুবই অসুস্থ। মাথায় আঘাত পাওনে বেশিক্ষণ তাকায় থাকতে পারি না। বেশিক্ষণ বইসা থাকলে পা ফুইলা যায়। পা ফেলাইতে পারি না। আমার এই অবস্থা দেইখা আমার স্বামী আমারে পোলারে ছাইড়া চইলা গেছে।

সাভারে বড়ো বোনের বাসায় থাকেন জেসমিন। মাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মাঝে মধ্যে ওষুধ কিনতে পারেন না বলে ছেদ পড়ে চিকিৎসায়।

তিনি বলেন, চেষ্টা করছিলাম কাজে যোগ দেওনের। কিন্তু শরীর এতো খারাপ লাগে। বাসার কাজই করতে পারি না অনেক সময়। এহনো ঠিক মতো শান্তি কইরা ঘুমাইতে পারি না। ঘুমের ওষুধ খাওন লাগে। ভয় লাগে। মনে হয় বিল্ডিং ভাইঙ্গা পড়বো।