• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

মোর্শেদ হত্যার শীর্ষ আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ

Cox's Bazar news
❏ সোমবার, এপ্রিল ২৫, ২০২২ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট(কক্সবাজার): ইফতার পর্যন্ত প্রাণভিক্ষা চেয়েও নির্মমভাবে খুনের শিকার হওয়া কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে চ্যাঞ্চল্যকর মোর্শেদ আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত শীর্ষ আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পিএমখালীর এলাকার সর্বস্তরের জনগন।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় পিএমখালীর নুর মোহাম্মদ চৌধুরী বাজার কমিটি এবং এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পিএমখালীর প্রতিবাদী যুবক মোর্শেদ আলী হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহার নামীয় শীর্ষ আসামীরা এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গসহ পুরো এলাকাবাসী।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন- শহীদ মোর্শেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামীদের ধরতে প্রশাসন রহস্যজনক ভাবে কালক্ষেপন করছে। এমনকি এজাহার নামীয় চিহ্নিত শীর্ষ আসামীদের গ্রেফতার না করে উল্টো রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে পুলিশ আসামীদের এখনও আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ চিহ্নিত এসব আসামীদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে কিন্তু ওসি মুনীরুল গীয়াস এসকল আসামীদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করে তাদের গ্রেফতার করা থেকে বিরত থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারাবে বলেও মন্তব্য করেন উপস্থিত বক্তারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে আরও বলেন- ইতিমধ্যেই মামলাটির অন্যতম শীর্ষ আসামী এবং কথিত ‘পাওয়ার’ আলীর ভাই মাহমুদুল করিম মাদু গ্রেফতার হবার আগেই আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ফেলেছে। জামিন পেয়েই সে আরও বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছে। এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়- ভুক্তভোগী পরিবার, মামলাটির বাদী সহ পুরো এলাকাবাসীকে নানা ধরণের হুমকি ধমকি দিয়ে বলছে- “এসব মামলা আমাদের জন্য কোনো ব্যাপার না। আমরাই থানার ওসি এসপি। পুরো মামলাই খেয়ে ফেলবো শীঘ্রই। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোদেরও মোর্শেদের মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

এসময় বক্তরা আরোও বলেন, পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা আলাল ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জয়নাল আবেদীন হত্যাকাণ্ডের সময় উপস্থিত শত শত মানুষকে উদ্দেশ্য করে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন— তোমরা মোরশেদ বলিকে বাঁচাতে কেউ আসবে না। তাকে মেরে ফেলার জন্য ওপরের নির্দেশ আছে। উপরে কে আছে? কার নির্দেশনায় তাকে খুন করা হয়েছে সেই রহস্যও খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

মামলাটির শীর্ষ আসামী মাদুর জামিন লাভ এবং এ অবস্থায় এলাকায় বিচরণের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পুরো এলাকাবাসী। তাদের এমন ভয়ঙ্কর বিচরণে এলাকায় আবারও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও দাবী করেন বক্তারা।

স্থানীয় যুবক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে যথাক্রমে বক্তব্য রাখেন- পিএমখালীর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বি.কম, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্বর ছিদ্দিক, আব্বাস উদ্দিন, নিহত মোর্শেদের ছোটো ভাই জাহেদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দীন চৌধুরী, নিহত মোর্শেদের ভগ্নিপতি সিরাজ, স্থানীয় মাদ্রাসার মুহতামিম নেজামুর রহমান সুলেমানী, মাছুয়াখালীর গাড়ি চালক নুরু, মাস্টার ফরিদ আহমদ, মমতাজ সওদাগর, আবু তাহের এবং বাজার কমিটির সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদ।

উল্লেখ্য, গত ৭এপ্রিল পিএমখালীর চেরাংঘর বাজার স্টেশনে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে ইফতারের আগ মুহূর্তে রোজাদার যুবক মোর্শেদ আলীকে কুপিয়ে হত্যা করে চিহ্নিত সন্ত্রীরা। উক্ত ঘটনায় নিহত মোর্শেদ আলীর ছোটো ভাই জাহেদ আলী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলা হবার তিন দিনের মধ্যে র‍্যাব ও পুলিশ এখন পর্যন্ত ৭জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এরপর থেকে প্রায় সব শীর্ষ আসামীরা এখন আত্মগোপনে চলে যায় এবং প্রশাসনও নতুন করে কোনও আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।