🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

ঈদের আগে ভোজ্যতেলের বাজার ফের ঊর্ধ্বমুখী


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৬, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে ভোজ্য তেলের বাজার। গত শনিবার বিশ্বে পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দেশের বাজারে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম। গত দুই দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলে ১৫ থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই বছর ধরে সয়াবিন ও পাম অয়েলের বাজার চড়া। দেশের বাজারে দাম কমাতে সম্প্রতি ভোজ্য তেলের বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানো হয়। এতে দাম কিছুটা কমে। কিন্তু এখন আবার লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম ।

ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে বাজারে সয়াবিন, পাম অয়েলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে তারা ভোজ্য তেলের বাজার অস্হিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে।

সূত্র জানিয়েছে, দেশে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কমপক্ষে আরও তিন মাস চলবে। এদিকে বাড়তি দামে যেসব তেল আমদানি হবে, সেগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল দেশে আসতে ২ মাস সময় লাগবে। এগুলো পরিশোধিত হয়ে খুচরা বাজারে আসতে আরও ২ মাস সময় লাগবে। সবমিলিয়ে আরও ৪ মাস সময় লেগে যাবে।

অন্যদিকে সয়াবিন তেল আমদানি হয় ব্রাজিল, কানাডা, ইউক্রেন ও চীন থেকে। এসব দেশ থেকে বাড়তি দামে সয়াবিন আসতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। সেগুলো পরিশোধিত হয়ে বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও ২ মাস। কিন্তু মিল মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে এখনই দাম বাড়াতে চাচ্ছে। অথচ এসব তেল কমপক্ষে তিন মাস আগে আমদানি করা হয়েছে। তখন সয়াবিনের দাম ছিল প্রতি টন ১,৬০০ ডলার এবং পাম অয়েলের ১,১৬০ ডলার। কম দামে তেল আমদানি করে বেশি দামে বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেট উঠে পড়ে লেগেছে। এদিকে সরকার দাম না বাড়ালেও মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কায় তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে চাহিদা মতো তেল মিলছে না। বিশেষ করে খোলা তেলের ঘাটতি বাড়ছে দ্রুত। তবে মিল মালিকরা বলছেন তারা চাহিদা অনুযায়ী তেলের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছেন মালিকরা।

দেশে ভোজ্য তেল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পাম অয়েল। পণ্যটির চাহিদা পূরণ হয় মূলত ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির ভিত্তিতে। গত শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। চলতি সপ্তাহেই এ ঘোষণা কার্যকর হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘোষণার প্রভাব শুরু হয়েছে দেশের বাজারে।

সূত্র জানিয়েছে, এই চক্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই বাজারে দফায় দফায় সয়াবিন, পাম অয়েলের দাম বাড়াচ্ছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকা ও খোলা পাম অয়েল ১৫৮ থেকে ১৬৩ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও যথাক্রমে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ও ১৪০ থেকে ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

যদিও সরকার খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৩৬ টাকা ও পাম অয়েল ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকারের বিপণন সংস্হা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে সয়াবিন তেল, পাম অয়েলের দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। সরকারের এ সংস্হাটির হিসেবে গত বছর এই সময় দেশে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১২০ থেকে ১২৩ টাকা ও খোলা পাম অয়েল ১০৬ থেকে ১১০ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।