• আজ বুধবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৫ মে, ২০২২ ৷

পাম্পগুলোতে লেখা ‘তেল নাই’!

পাম্প
❏ সোমবার, মে ৯, ২০২২ Uncategorized

মোঃ ফরহাদ হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি: পাম্পে সাদা কাগজে লেখা ‘তেল নাই।’ পেট্রল বা অকটেন কিনতে এসে তেল ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।

নীলফামারীতে চাহিদা অনুযায়ী পোট্রোল ও অকটেন সরবরাহ না থাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে জ্বালানী তেলের। জেলার ছয় উপজেলার ৩৬টি ফুয়েল ষ্টেশনে গত ৮দিন থেকে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ডিপো থেকে সরবরহ না থাকার ফলেই এমনটি হচ্ছে দাবী ব্যবসায়ীদের।

পেট্রোল সংকটের কারনে চালকরা বিভিন্ন ফুয়েল ষ্টেশন ঘুরে ঘুরে পেট্রোল না পেয়ে বাধ্য হয়ে গাড়িতে অকটেন ব্যবহার করেছেন চালকরা। এ অবস্থায় খরচ বেড়ে যাওয়া আর পরিমান মতো জ্বালানী তেল না পাওয়ায় চালকসহ, সাধারণ মানুষ পড়ছেন বিপাকে।

মটরসাইকেল চালক আল-আমিন বলেন, সকাল থেকে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গেছি কোথাও পেট্রোল পাই নাই, দুই একাটি পাম্পে অকটেন থাকলেও ২০০ টাকার বেশী বিক্রি করছে না তারা।

অপর চালক রাহাদ হোসেন জানান, আমার গাড়ির তেল পথেই শেষ হয়ে গেছে, প্রায় ২ কিলোমিটার দূর থেকে গাড়িটি ঠেলে এই পেট্রোল পাম্পে নিয়ে আসছি, এখন এই পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী বলছে পাম্পে তেল নেই। তেল সংকট এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের গাড়ি চালানো যাবে না। আমরা চাই দ্রত পেট্রোল ও অকটেনের সরবারহ স্বাভাবিক হোক।

রশিদা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল্লাহ জানান, ‘এক মাস ধরে পেট্রল সংকট চরমে পৌঁছেছে। ক্রেতাদের দেয়া যাচ্ছে না। ঈদের কিছুদিন আগে ১৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছিল। সেগুলো দিয়ে কোনো রকমে চালাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই পাম্পে দেড় হাজার লিটার পেট্রল ও ৬০০ লিটার অকটেন প্রয়োজন। সরবরাহ না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ। তাই পাম্পের গায়ে তেল নেই লিখে দিয়েছি।’

নীলফামারীর কালিতলা এলাকার রফিকুল আলম ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার শাহ্ আলম জানান, ‘৮দিন আগেই আমাদের পেট্রোলের ষ্টোক শেষ হয়েছ। এখন অকটেন বিক্রি করছি। অকটেনও শেষের পথে। ডিপো থেকে তেলে সরবরহ নেই।’

নীলফামারী জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আকতার হোসেন স্বপন জানান, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে তেলের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অর্ডার পাঠানোর পরও কোম্পানীর ডিপোগুলো থেকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করছে না। জেলার কোন ফুয়েল ষ্টেশনেই গত সাত দিন থেকে পেট্রোল বিক্রি করতে পারেনি মজুদ না থাকার কারণে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জেলার ৩৬টি পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার লিটার পেট্রল ও ২৫ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। তিন মাস ধরে পেট্রল সংকট দেখা দিয়েছে। পার্বতীপুর ডিপোয় না পেলে বাঘাবাড়ী থেকে তেল এনে পাম্পগুলো চালানো হচ্ছিল। মাসখানেক ধরে পরিস্থিতি ভালো নয়। এখন অধিকাংশ পাম্পে অকটেনও নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’