🕓 সংবাদ শিরোনাম

জমি দখলে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসী হামলা, বৃদ্ধসহ আহত-২ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের দায়ে ১১ জনের কারাদণ্ড‘সংকট নিরসনে শ্রীলঙ্কা ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মডেল’ অনুসরন করতে পারে’স্কুল ফাঁকি দেয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা উচিত: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীটানা ৩১ দিন করোনায় মৃত্যুহীন দেশ, গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ১৬দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আবিস্কার: হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’রাতগভীরে ঘুম থেকে উঠে গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শাবিপ্রবি পেল সর্বোচ্চ বরাদ্দবঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা চ্যাম্পিয়াননির্বাচনে ভোটারদের না আসার প্রবণতা রয়েছে: নির্বাচন কমিশনার

  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

মির্জাপুর ইউপি নির্বাচন: বিতর্কিতসহ নৌকার টিকেট পেতে মরিয়া ২৭ প্রার্থী

Mirzapur news
❏ শুক্রবার, মে ১৩, ২০২২ ঢাকা

মো. সানোয়ার হোসেন,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: আসন্ন ১৫ জুন ইউপি নির্বাচনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে নৌকার টিকেট পেতে মরিয়া ২৭ প্রার্থী। এর ভেতরে বিদ্রোহী, বিতর্কিত, মামলার আসামীও রয়েছেন। যাদের অনেকেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নৌকা পেতে ধরণা দিচ্ছেন।

এ ৬ ইউপিতে নৌকা প্রত্যাশীরা হলেন, ভাওড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল ইসলাম, সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মালেক, বহুরিয়া ইউপির সাবেক দুই চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া ও আবুল কাশেম সিকদার খোকন, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ সিকদার, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা ফজল, সদস্য রেজাউল করিম বাবলু, সদস্য শেখ জসিম উদ্দিন, লতিফপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আলহাজ সিকদার, সদস্য সৈয়দ আরিফ সিকদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজিব সিকদার, ফতেপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদার, ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, আজগানা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার, ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সিকদার, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মল্লিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম.এ কদ্দুস মিয়া, তরফপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি বাছেদ মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ইজ্জত আলী জনি।

জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল নির্বাচনে উপজেলার বহুরিয়া ইউপিতে নৌকা প্রতিক পান আবু সাঈদ মিয়া। আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন রেজাউল করিম বাবলু। ফলে ওই নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সামাদ মিয়া। লতিফপুর ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন সৈয়দ আরিফ সিকদার। যদিও ওই ইউপিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জাকির হোসেন।

এদিকে ফতেপুর ইউপিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রউফ মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। যোগ দিয়েই ইউনিয়ন আ.লীগের সদস্য পদ পান। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কর্তন, চাল আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছিলো। যা নিয়ে ইতিপূর্বে পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এবারো রউফ নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও তরফপুর ইউপিতে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ইজ্জত আলী জনির সহোদর ভাইয়ের করা মামলায় আসামী হয়ে তিনি জেলে যান। উপজেলা আ.লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ নিজেকে দাবি করাকে নিয়ে সমালোচনা ও একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। অবশ্য জেলা আ.লীগের সভাপতি-সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্যাডে জনি সহ-দপ্তর সম্পাদকের পদে আছেন বলে জানা যায়। তবে বিগত ইউনিয়ন ও উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে তিনি কাউন্সিলর-ভোটার হতে পারেননি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হন জনি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলার ৮ ইউপির নির্বাচনে ৫ টিতেই নৌকার ভরাডুরি হয়। ৩ ইউপিতে নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করেন। যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেওয়ায় ৫ ইউপিতে নৌকা প্রার্থী পরাজিত হয় বলে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ। এবারের নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে নৌকা তুলে না দিলে সূচনীয় পরাজয়ের শঙ্কা রয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের দাবি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, ২৭ প্রার্থীর মধ্যে রেজাউল করিম বাবলু ও সৈয়দ আরিফ গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাদের দুজনের নাম বাদ রেখে ২৫ প্রার্থীর নামের তালিকা টাঙ্গাইল জেলা আ.লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে। যদি কোন প্রার্থী নির্বাচনে বিদ্রাহী হিসেবে অংশ নেয় তাহলে তাকে কেন্দ্রীয় আ.লীগের নির্দেশনা মোতাবেক বহিস্কার করা হবে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, ৬ ইউপির নির্বাচন চলতি মাসের ১৭ মে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন, যাচাই-বাছাই ১৯ মে, আপিল ২২ মে, নিষ্পত্তি ২৫ মে, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোট গ্রহণ ১৫ জুন। ছয় ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৪ শত ৬৩  জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৭ হাজার ৯ শত ৬ জন ও নারী ভোটার ৫৬ হাজার ৫ শত ৫৭ জন। এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।