আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিনের শবযাত্রায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, গ্রেফতার ৪


❏ শুক্রবার, মে ১৩, ২০২২ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার নিহত ফিলিস্তিনি সংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর শবযাত্রার মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

পাশপাশি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগে মিছিল থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সংবাদে বলা হয় , ‘ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী তাদের অধিকৃত এলাকায় ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন অবৈধ।’

শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ ফ্রেঞ্চ হাসপাতাল থেকে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহের লাশ অ্যানানসিয়েশন অব দ্য ভার্জিন গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতার পর গির্জার সংলগ্ন গোরস্তানেই কবরস্থ করা হয় তাকে।

আলজাজিরার সংবাদে আরও প্রকাশ, হাসপাতাল থেকে তার লাশ বের করার পর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে এবং গির্জার কাছাকাছি যখন শিরিন আবু আকলেহর লাশ পৌঁছায় সে সময় তা রীতিমতো মিছিলে রূপ নেয়। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে মিছিলে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শণ করতেও দেখা যায়।

শবযাত্রার শুরু থেকেই ইসরায়েলের দাঙ্গা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা মিছিল অনুসরণ করছিলেন। চার্চের পৌঁছানোর পর সেখানে ঢোকার জন্য শবযাত্রার মিছিলে উপস্থিতরা ঠেলাধাক্কা শুরু হলে চড়াও হয় ইসরায়েলি বাহিনী।

‘প্রথমে তাদের (মিছিলের লোকজন) শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল; কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় লাঠিচার্জ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময়ই পতাকা প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে।

এর আগে বুধবার ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলের জেনিন শহরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলার সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হন ৫১ বছর বয়সী এই সংবাদিক। এ সময় আলি সামৌদি নামে আরও এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

আলজাজিরার দাবি, ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন শিরিন আবু আকলেহ। এই সংবাদমাধ্যমের কর্মকর্তা নিদা ইব্রাহিম বলেছেন, কোন পরিস্থিতিতে শিরীন আবু আকলেহের মৃত্যু হয়েছে সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনা সম্পর্কিত একটি ভিডিওচিত্রে আবু আকলেহকে মাথায় গুলি করা হয়েছে বলে দেখা গেছে।

সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী এবং প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ভুক্ত। ফিলিস্তিন ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই দেশের যৌথ নাগরিকত্ব ছিল তার।

২০০৭ সালে আল জাজিরার ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন শিরিন। ফিলিস্তিনের সবচেয়ে বিখ্যাত সংবাদ প্রতিনিধিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। সূত্র : আল জাজিরার