• আজ সোমবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২৩ মে, ২০২২ ৷

আল্লাহ নিজে আমাকে বাঁচিয়েছেন: মুরাদ হাসান


❏ শনিবার, মে ১৪, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: মাথার ওপর বৈদ্যুতিক পাখা (সিলিং ফ্যান) খুলে পড়ে আহত হয়েছেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান। মুরাদের কপালের ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই পড়েছে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মুরাদ হাসান বলেন, ‘আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটে নাই। বৈঠকখানায় ছয়টা ফ্যান ছিল। আমার মাথার উপর যেটা ছিল শুধু ওটাই খুলে পড়লো। বাকিগুলো চলতেছিল। খুলে পড়ে নাই।’

তিনি বলেন, ‘আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আল্লাহ নিজে আমাকে বাঁচিয়েছেন, আমার চোখ রক্ষা করেছেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘হল রুমের বাইরে আমার উঠানের ওপরে টিনশেড করা ওখানে লাইট ফ্যান আছে। ওই সময়টাতে আমার বেশ গরম লাগছিল। আমার চেয়ারটা একটু সরিয়ে ঠিক ফানের নিচে গিয়ে বসছি, বসার দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই ফ্যান অদ্ভুতভাবে, এসে খুলে আমার ডান চোখের ভ্রুর ওপরে এমন জোরে একটা আঘাত লাগে আমি ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ফ্যানটা ধরেছে, ফ্যানটা না ধরলে আমার আরও ক্ষতি হতে পারত। আমি চিন্তাও করতে পারি নাই বিষয়টা। এক কথায় আল্লাহর রহমতে, আল্লাহ নিজে আমাকে বাঁচিয়েছেন। আল্লাহ নিজে আমার চোখটা রক্ষা করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং আমাদের এই নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্যান সরিয়ে আমাকে ধরে তুলে আনে। আমার তো এত রক্ত পড়ছিল যে আমি ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যায় কি না।’

বিষয়টিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে জানান ড. মুরাদ। বলেন, ‘এ অবস্থায় জাস্ট ফ্যানই, অন্য কোনো কারণ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা। একটা জিআই তারের মধ্যে অ্যাঙ্গেল দিয়ে লাগানো ছিল। ওইভাবে এইটা মনে হয় কেউ খেয়াল করে নাই। আমরা সবাই আমার বৈঠকখানায় বসেছিলাম। সেখানে মোট ৬টি ফ্যান আছে। সেগুলো চলছিল, ওগুলো খুলে পড়ে নাই। কিন্তু আমার মাথার উপর যে ফ্যানটি ঘুরছিল, সেটিই হঠাৎ খুলে এসে আমার মাথায় পড়ে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে বাড়ির সামনে বৈঠকখানায় আলাপ-আলোচনা করছিলেন সংসদ সদস্য মুরাদ।

হঠাৎ বৈঠকখানার একটি সিলিং ফ্যান তাঁর মাথার ওপর পড়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে চিকিৎসা দেয়।

মুরাদ হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদ নাঈম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সামনের বৈঠকখানায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছিলেন সংসদ সদস্য। হঠাৎ বৈঠকখানার একটি সিলিং ফ্যান তাঁর মাথার ওপর পড়ে। এতে তাঁর কপাল ফেটে যায়।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, সিলিং ফ্যান মাথায় পড়ে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের আহত হওয়ার খবর পান তিনি। পরে হাসপাতালের একটি চিকিৎসকদল তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তাঁর কপালে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। বাড়িতেই চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।