🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ ৷ ২১ মে, ২০২২ ৷

নবীকে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়ায় কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করল সহপাঠীরা


❏ শনিবার, মে ১৪, ২০২২ আন্তর্জাতিক

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: এক কলেজছাত্রীকে প্রথমে পিটিয়ে হত্যা করে তারই সহপাঠীরা। এরপর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নবীকে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়ায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান ওই কলেজছাত্রীরই সহপাঠীরা।

খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে নাইজেরিয়ায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নাইজেরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো প্রদেশে এ ঘটনা ঘটেছে। যে কলেজে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেটি হামলার পরপরই বন্ধ করে দেয়া হয়।

সোকোটো প্রদেশ কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, কলেজছাত্রী ডেবোরা স্যামুয়েলের হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স ডেবোরার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্রীর একজন মুসলিম সহপাঠী একটি ইসলামিক লেখা পোস্ট করে। ডেবোরা সেই পোস্টের সমালোচনা করেছিলেন।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ডেবোরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে গ্রুপে অডিও পোস্ট করেন। এরপরই এমন ঘটনা ঘটায় তার সহপাঠীরা। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মূলত মুসলিমরা এবং দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

পুলিশের মুখপাত্র সানুসি আবুবকর এক বিবৃতিতে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা ভিকটিমকে স্কুল কর্তৃপক্ষ যে নিরাপত্তা কক্ষ থেকে লুকিয়ে রেখেছিল সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে আনে। তাকে হত্যা করে এবং ভবনটি পুড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এত বেশি শিক্ষার্থী ছিল যে, তাদের কিছুই করার ছিল না।

একজন শিক্ষার্থী জানান, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। তারপর তাদের ছত্রভঙ্গ করতে আকাশে গুলি ছুড়তে শুরু করে। কিন্তু তারা প্রতিরোধ করেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে লাঠি ও পাথর ছুড়তে শুরু করার পর তারা ওই কলেজছাত্রীকে আর রাখতে পারেনি। এরপর পাথর ও লাঠি দিয়ে ডেবোরাকে পিটিয়ে হত্যা করে শিক্ষার্থীরা। এরপর তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।