রংপুরে জমে উঠছে কুরবানীর পশুর হাট


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: ঈদের বাকি আর মাত্র কদিন। এ অবস্থায় জমে উঠেছে রংপুরের বিভিন্ন পশুর হাট। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাটে প্রচুর পশু আসছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররাও এসে ভিড় জমিয়েছেন।

দেশের অন্যতম পশুর হাট লালবাগে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পশুরহাট বসেছে। তবে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি।

সরেজমিন লালবাগ হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের এলাকা ছাপিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পশুর হাট বসেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল নিয়ে এসেছেন খামারিসহ সাধারণ বিক্রেতারা। সর্বনিম্ন ৮০ হাজার টাকার নিচে এবার গরুর দাম বলছেন না বিক্রেতারা।

হাট ঘুরে দেখা গেছে ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা হাঁকা হচ্ছে গরুর দাম। দেখা গেছে, নগরীর বাসিন্দারা বিভিন্ন পশুর দাম-দর করছেন। তবে অনেকের সাধ্যের সঙ্গে দাম মিলছে না বলে জানিয়েছেন তারা।

নগরীর কেরানিপাড়া থেকে গরু কিনতে আসা খবির উদ্দিন বলেন, পছন্দের পশুর দাম লাখ টাকার উপরে চাইছে। মোট কথা ভালো মানের গরু কিনতে হলে লাখ টাকার উপরে যেতে হবে।

একই কথা জানান, মুন্সীপাড়া থেকে আসা আবুল হোসেন ও শরিফুলসহ অনেকে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম তিনগুণ বেড়েছে। তাই গরু পালনের খরচও অনেক বেড়েছে। এ অবস্থায় লাখ টাকার নিচে সাধারণ গরু বিক্রি করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে হাটে ভিড় জমিয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা। তারা বলছেন, দাম অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি। তাই দাম বেশি দিয়ে হলেও কিনতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় ঢাকা থেকে আসা পাইকার হাসেম আলী, জব্বার মিয়া, গাবতলী থেকে আসা মোক্তার মিয়াসহ অনেক পাইকারকে একটু বেশি দামে হলেও, গরু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকার সলিমসহ আরও বেশ কয়েকজন জানান, সময় কম থাকায় বেশি দামেই গরু কিনতে হচ্ছে তাদের।

শফিকুল নামে এক বিক্রেতা বলেন, খদ্দেররা মাঝারি সাইজের গরু পছন্দ করেন। আর লালবাগ হাটে সব ধরনের গরু পাওয়া যায় বলে অনেক ক্রেতা আসেন। অনেকে আবার খামারিদের বাড়ি থেকেও গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এবার রংপুরের লালবাগ হাট ছাড়াও নগরীর বুড়িরহাট, তারাগঞ্জ, পীরগাছা কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গরুর হাট বসেছে। তবে লালবাগ হাটে গরুর আমদানি সবচেয়ে বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে রংপুরের প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। জেলায় ২৫ হাজার ৭১ জন খামারির কাছে রেকর্ড পরিমাণ গরু ছাগল ভেড়া ও মহিষ রয়েছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬১০টি পশু রয়েছে।

জেলায় দুই লাখ ১৬ হাজার ৩৭০টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এ অবস্থায় উদ্বৃত্ত থাকবে এক লাখ ৩২ হাজার ৩১৫টি। তাই কোরবানির পশুর জন্য ভারতীয় গরুর কোনও প্রয়োজন নেই। বরং এখন রংপুর কোরবানির পশুর সংখ্যার দিক থেকে পুরোপুরি স্বাবলম্বী। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এক লাখ ৩২ হাজার পশু দেশের অন্য জেলার চাহিদা মেটাতে সক্ষম।