• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

খুলেছে রহস্যের জট; প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পাল্টা আক্রমণে যেভাবে খুন হয় যুবক


❏ শুক্রবার, জুলাই ৮, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: অপমানের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পাল্টা আক্রমণে খুন হয় যুবক। গ্রাম্য শালিসে বাবাকে অপমানের প্রতিশোধ নিতে বিপক্ষের মহসীন সরকারকে শায়েস্তা করার চেষ্টা অনেকদিন ধরেই ছিলো মহসীনের।

তবে শেষ অবধি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় নিজেই। আক্রমন করতে গিয়ে পাল্টা আক্রমণে আরিফের হাতেই খুন হয় মহসীন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সৌম্য এর আদালতে আরিফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খলাপাড়ার বাসিন্দা মো. মহসীন সরকার (৩৫) গত সোমবার সন্ধ্যায় খুন হন। তিনি উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম ছেলে।

পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ছাড়াও পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আরিফ। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাইছেন না পুলিশ।

মহসীন হত্যার পর তার বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার আরিফের বাবা আউয়াল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে ৬ মে আরিফকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আখাউড়া থানা পুলিশ।

আরিফের জবানবন্দি ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রবাসে থাকা অবস্থায় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে কুৎসা রটায় মহসীনের পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহসীনের বাবাকে অপমানিত করেন আরিফ। এ নিয়ে হওয়া সালিস বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসা হলেও মেনে নিতে পারছিলেন না মহসীন।

এরই জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আরিফের ওপর আক্রমণ চালায় মহসীনসহ কয়েকজন। আরিফ তখন বাসার জন্য বাজার ও বিভিন্ন জিনিস নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। স্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী একটি ছুরিও কিনেন তিনি। হামলার সময় ওই ছুরিতেই তিনি আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি আক্রমণ করেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার জানান, কৌশল অবলম্বন করে আরিফকে ধরা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মতে নিজ বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।