🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

বগুড়ার করতোয়া নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার

Bogura Pic
❏ শনিবার, জুলাই ৯, ২০২২ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরের ধড়মোকাম নামাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৯ জুলাই)সকাল ৯ টার দিকে করতোয়া নদীর ধড়মোকাম এলাকায় কলেজ ছাত্র সামান তাহমিদ (১৮) এবং বেলা দেড়টার দিকে  সাব্বির আহমেদ শিশির (১৮)এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহমিদ শেরপুর পৌরশহরস্থ খন্দকারপাড়ার শিক্ষক মোজাফফর রহমানের ছেলে ও শেরপুর শেরউড ইন্টারন্যাশন্যাল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আরেকজন উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর জামতলা এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে ও বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মৃত কিশোরদ্বয় একে অপরের বন্ধু বলে পরিচিত ছিল।

স্থানীয়রা জানান, শেরপুর শহরের বারদুয়ারীপাড়ার শিক্ষক দম্পতি মোজাফফর রহমান ও মুর্শিদা খাতুনের একমাত্র ছেলে সামান তাহমিদ ও তার আরেক বন্ধু মহিপুর জামতলা এলাকার  সাব্বির আহমেদ শিশির ৮ জুলাই শুক্রবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলো।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সামান তাহমিদ ও সাব্বির আহমেদ শিশির উভয়েই তাদের পিতা-মাতার কাছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য ৭ ও ১০ হাজার করে টাকা চায়। তারা দুই বন্ধুর চাহিদার তুলনায় অর্ধেক টাকা পেয়ে ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ঘোরাঘুরি করে গভীর রাত্রে বন্ধু তাহমিদের বাসায় ঘুমায়। পরে ৮ জুলাই শুক্রবার ভোরে উঠে খেলতে যায় এবং  সোয়া ৭টার দিকে দুই বন্ধু একই সাথে শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এমনটাই নিশ্চিত করেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা। এদিকে দিনভর উভয়ের কাউকে বাড়ী না ফিরতে দেখে শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের কাছে জানায় তাহমিদের বাবা শিক্ষক মোজাফফর রহমান।

পরবর্তীতে শেরপুরের ধড়মোকাম পূর্ব পাড়া এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ পেতে শুরু করেন। এরপর তারা দুর্গন্ধের কারণ অনুসন্ধানে নদীর পাড়ে গেলে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ বেলা সাড়ে ১০টায় এসে লাশটি উদ্ধার করে। মরদেহের পরনে একটি কালো টি শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা ছিলো। এদিকে দুপুর দেড়টায় উপজেলার গোপালপুর এলাকার করতোয়া নদীতে সাব্বিরের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ উভয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

সাব্বির আহমেদ শিশিরের বাবা লুৎফর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে তার ছেলে সাব্বির নিখোঁজ ছিলো। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যাচ্ছিলো না। বিকেল ৩টার পর আবারও তার মোবাইলে ফোন দিলে ১০-১২ বছরের এক শিশু ফোন রিসিভ করে। তখন সে ব্যক্তি জানায় মোবাইল ফোনটি সে আলিয়া মাদ্রাসার পেছনে নদীর ধারে পেয়েছে। এরপর তিনি তাকে মোবাইলটি নিয়ে আসতে বলে তার কাছে শিশুটি মোবাইল ফোনটি পৌঁছে দেন। এরপর তিনি তার ছেলে নিখোঁজ বলে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা তার লাশ সনাক্ত করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পুলিশ এ বিষয়ে পৃথক দুটো অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন