• আজ রবিবার, ১৭ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২ অক্টোবর, ২০২২ ৷

জাহাজে শ্রীলংকা ছাড়ল বড় স্যুটকেস , রাজাপাকসের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন


❏ রবিবার, জুলাই ১০, ২০২২ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বেশ কিছুদিন চুপ থাকার পর শনিবার ফের শ্রীলংকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে৷ রাজাপাকশে সরকারের উপর তুমুল ক্ষুব্ধ দেশটির জনগণ।

শনিবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনে ঢুকে পড়ে।

অবস্থা বেগতিক দেখে আগেই গোটাবায়া তার সরকারি বাসভবন থেকে পালিয়ে বাঁচেন।

গোতাবায়া দেশে আছেন নাকি পালিয়ে দেশ ছেড়েছেন? বিষয়টি এখন আলোচনায়।

এরইমধ্যে শ্রীলংকা নৌবাহিনীর একটি জাহাজে স্যুটকেস লোড করার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, স্যুটকেসগুলো ছিল প্রেসিডেন্ট গোতবায়া রাজাপাকসের।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়,তিনজন লোক বড় স্যুটকেস বহন করে এসএলএনএস গজবাহু জাহাজে উঠাচ্ছে। তিনজনকে তাড়াহুড়ো করে দৌড়াতে দেখা যায়।

কলম্বো বন্দরের হারবার মাস্টারের বরাত দিয়ে শ্রীলংকার গণমাধ্যম নিউজ ওয়ান চ্যানেল জানিয়েছে, একটি দল এসএলএনএস সিন্দুরালা এবং এসএলএনএস গজবাহু জাহাজে চড়ে বন্দর ছেড়ে চলে গেছে।

ওই মাস্টার বলেছিলেন, যারা জাহাজে চড়েছিলেন তাদের সম্পর্কে বিশদ বিবরণ জানা নেই তার।

এদিকে শ্রীলংকার একটি শীর্ষ সরকারি সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছে, গত রাতে (শুক্রবার) রাষ্ট্রপতি রাজাপাকশেকে সেনা সদর দফতরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তবে দেশটির বেসরকারি সম্প্রচারকারী গণমাধ্যমগুলোর দাবি, শ্রীলংকার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাজাপাকশের একটি গাড়ি বহর দেখা গেছে। তবে তিনি দ্বীপরাষ্ট্র ছেড়েছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত গোটাবায়া রাজাপাকসের বর্তমান অবস্থান অজানা এবং বিক্ষোভকারীরা এখন তার অফিস এবং সরকারি বাসভবন উভয়ই দখল করে রেখেছে।

বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ার পর বিক্ষোভকারীরা গোতাবায়ার বিলাসবহুল কক্ষ, রান্নাঘর এবং অন্যান্য স্থানে হানা দেয়। এ সময় অনেককে প্রেসিডেন্টের বিছানায় শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়। রান্নাঘরে ঢুকে সেখানকার খাবার খেতেও দেখা যায় তাদের। গোটাবায়ায় সুইমিংপুলে ঝাপাঝাপি করতেও দেখা গেছে তাদের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দু’জন বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের কক্ষের একটি রেফ্রিজারেটর থেকে মদের বোতল বের করে তা পান করছেন। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, একদল বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন, সেলফি তুলছেন এবং ভিডিও ধারণ করছেন।

প্রসঙ্গত, শ্রীলংকা ২২ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি দেশ। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয় তাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পর৷

মূলত: বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতির কারণে পঙ্গু হয়ে গেছে দেশটি। প্রয়োজনীয় জ্বালানী আমদানি করতে ব্যর্থ হয় দেশটির সরকার। খাদ্য সামগ্রীসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো জনগণের ধরা-ছোঁয়ায় বাইরে এখন।

জ্বালানির অভাবে পড়া মানুষ এখন অধৈর্যশীল হয়ে পড়েছে। তারা এখন চায় ক্লিন ইমেজের মানুষ তাদের দেশ চালাবে। এমন কাউকে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এমন দুরঅবস্থা হয়ত চলতে থাকবে।