করোনার ৩ বছর পর মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কোরবানি দিয়ে ঈদ পালন


❏ সোমবার, জুলাই ১১, ২০২২ আন্তর্জাতিক

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া: করোনা মহামারীর আকার ধারন করার পর ২০১৯ এর ১৮ মার্চ লকডাউন শুরু হয়। এর পর প্রায় ৩ বছর বিধিনিষেধর কারণে সামাজিক ভাবে কোরবানি দিয়ে ঈদ পালন করা হয়নি। এমনকি জমায়েতে ঈদের নামাজ আদায় করা বিধি নিষেধ ছিল। দীর্ঘ দিন পর এবার বিধিনিষেধ মুক্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নামাজ আাদয় করেন প্রবাসীরা।

মালয়েশিয়ায় সরকারি অনুমোদন নিয়ে মুসলিম প্রবাসীরা কোরবানি দিতে হয়। অনুমোদন ছাড়া পশু কোরবানি করলে দন্ডনীয় অপরাধ। সব প্রবাসীর পক্ষে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ প্রবাসী মাংস দোকান থেকে মাংস কিনে খান। সম্মিলিতভাবে ঈদের নামাজ আদায়ের পর পছন্দের পশু কোরবানি করেন। প্রবাসীদের মাঝে গণহারে মাংস বিতরণের জন্য পশু কোরবানি দেন মারুফ গোল্ডেন রোজ এর মনিরুজ্জামান মাসুম ও এমসিবি ইঞ্জিনিয়ারিং এসডিএন বিএইচডি এর মিনহাজ মন্ডল।

এ সময় গরু ছাগল সহ ১ ডজন পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এসময় মারুফ গোল্ডেন এর মনিরুজ্জামান মাসুম এবং এমসিবি ইঞ্জিনিয়ারিং মিনহাজ মন্ডল ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন নাসির এর নেতৃত্ব শতাধিক প্রবাসী উপস্থিত হয়ে পশু কোরবানি করে মাংস পলিথিনে করে সহস্রাধিক প্রবাসীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৮ টায় কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ নামাজ শুরু হয়। রোববার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানী কুয়ালালামপুরের জাতীয় মসজিদ (নেগারায়) ও সোয়া ৮টায় মসজিদ উইলাইয়া জালান দুতা সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের পর মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। প্রবাসে পরবাসে স্বজনহীন ঈদ বলতে গেলে এক প্রকার নিরানন্দ ও নিষ্প্রান। নিজ দেশে পরিবারের সাথে সেমাই খেয়ে যে অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায় সেটা বিদেশে দামি খাবার আর বিশাল প্রাচুর্য্যের মধ্যেও সেই সূখ টা পাওয়া যায় না। তারপরও ভাগ্য কে মেনে নিয়ে পরিবারের আনন্দ টা সকল প্রবাসীদের মাঝে ভাগাভাগি করে উপভোগ করার চেষ্টা করেন তারা ।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শহরে ঈদ-উল- আযহা উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হাংতোয়া মসজিদ আল বোখারি, মসজিদ জামেক, তিতিওয়াংসা বায়তুল মোকাররাম, কোতারায়া বাংলা মসজিদ, ছুবাংজায়া বাংলা মসজিদ, ক্লাং, পেনাং, ছুঙ্গাই ভুলু, সেলায়ং পাছার পুচং, মালাক্কা, জহোরভারুতেও ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দীর্ঘ সময় পর এবার বিধিনিষেধ না থাকায় ঈদের নামাজে বাঁধ ভাঙ্গা ঢল দেখা গেছে প্রবাসীদের। যেভাবে ঈদের আগে দেশে এক সপ্তাহ রেমিট্যান্স প্রবাহের ঢল নামে।

মারুফ গোল্ডেন রোজ এসডিএন বিএইচডি এমডি মনিরুজ্জামান মাসুম বলেন, আমরা প্রবাসে থাকলেও আমরা ঈদের নামাজ পড়ে কোরবানি দিয়ে মাংস প্রবাসীদের মাঝে বিতরণ করে আনন্দ টা ভাগাভাগি করার চেষ্টা করি। এই ত্যাগের মাঝে একটা অন্যরকম ভালোলাগা ভালোবাসা অনুভূত হয়। এমসিবি ইঞ্জিনিয়ারিং এসডিএন বিএইচডি এর এমডি মিনহাজ মন্ডল বলেন, আমরা নামাজ শেষ করে আমার নিজস্ব বাড়িতে কোম্পানির কর্মী এবং প্রবাসীদের নিয়ে পশু কোরবানি করেছি। মাংস সকল প্রবাসীদের মাঝে বিতরণ সম্পন্ন করেছি। তিনি আরে বলেন, আমরা প্রতি বছর এভাবে ই সকল প্রবাসীরা মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করি।

এদিকে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু সরকার কঠোর বিধিনিষেধ এর পরিবর্তে স্বাস্থ্য বিধি মেনা চলা সহ ভ্যাকসিনে মোকাবেলা করার পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মগ্ন। তারা মনে করেন করোনায় যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা কোনদিন পূরন হবে না। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নতুন নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হবে।