পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট


❏ সোমবার, জুলাই ১১, ২০২২ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে তার পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে দেশটির স্পিকার জানান, গোটাবায়া আগামী বুধবার (১৩ জুলাই) পদত্যাগ করবেন।

সোমবার (১১ জুলাই) শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গোটাবায়া রাজাপাকসে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন তিনি আগামী বুধবার পদত্যাগ করছেন।

দেশটিতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাবার সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রচণ্ড টান পড়ায় জ্বালানি তেল, খাদ্য এবং ওষুধ পর্যন্ত আমদানি করতে পারছে না সরকার। সূত্র: বিবিসি

এরই প্রেক্ষাপটে, সরকারের বিরুদ্ধে ‘আর্থিক অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগে গত কয়েকমাস ধরে দেশটির সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ করছে। কিন্তু শনিবার পরিস্থিতি চরম আকার নেয় যখন সারা দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ কলম্বোতে এসে শহরের যে এলাকায় সরকারি অফিস-আদালত এবং মন্ত্রী কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে সেখানে ঢুকে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে, ‘গোটা গো হোম’ (গোটা বাড়িতে চলে যাও) স্লোগান দিতে দিতে অনেক মানুষ জোর করে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন। এ সময় পুলের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক বিক্ষোভকারীকে দেশটির পতাকা উড়াতে দেখা যায়। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিছানায় সেলফি তুলেছে এবং তাদের ফার্নিচারে বসতে দেখা গেছে।

জনসাধারণের এভাবে হামলার আগে গোটাবায়াকে বাসভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট এখন কোথায় অবস্থান করছেন তা স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত গোটাবায়াকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, তিনি কোনো বিবৃতিও দেননি। এছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেও পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন। কলম্বো থেকে বিবিসির একজন সংবাদদাতা শনিবার জানান, প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে এখন কোথায় আছেন তা নিয়ে কেউই কিছু জানে না।

এদিকে দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলো রবিবার একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক আন্দেলনের মুখে মেয়াদপূর্তির আগেই রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগে রাজী হন। তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন অর্থনেতিক সংকটে পতিত দেশটিকে এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলগুলো বৈঠক করেছে।