🕓 সংবাদ শিরোনাম

দেশের বাজার আ.লীগের পকেটে ঢুকে গেছে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী * গুগল সার্চেও বিশ্বের সেরা মানুষ প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) * ধর্মের বিরুদ্ধে যায় এমন ঘটনা বড় করে দেখাবেন না: প্রধানমন্ত্রী * নৌকার টিকিট পেলেন সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে * ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে, স্বাভাবিক হবে দ্রুতই * আফ্রিকায় আইইডি বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত * উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি: কিশোরীর মৃত্যু * পাবনায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২ * হজে যাওয়ার ৬৫ বছরের বয়সসীমা থাকছে না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী * মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘ভুল’ বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন: আ.লীগ নেতার ভুল স্বীকার *

  • আজ মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৪ অক্টোবর, ২০২২ ৷

কক্সবাজারে কোটি টাকার জমি দখল মুক্ত করলো বনবিভাগ

Cox's Bazar news
❏ সোমবার, জুলাই ১৮, ২০২২ চট্টগ্রাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কলাতলী বিট কার্যালয়ের কোটি টাকার জমি জবরদখল করে ভূমিদস্যুচক্র কর্তৃক রাতের আঁধারে নির্মাণ করা স্থাপণা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বনকর্মীরা। কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সৈকতপাড়া এলাকার কার্যালয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টা হতে দুপুর পর্যন্ত অভিযানে কোটি টাকার এ জমি দখল মুক্ত করা হয়।

এসময় দখল উচ্ছেদে অংশ নেয়া বনকর্মীদের উপর নারীদের দিয়ে ইটপাটকেল মেরে হামলা চালিয়েছে দখলচক্র। দখলে ব্যবহার করা বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করে অভিযানকারীরা। সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ার অপরাধে দখলদার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করার পর বন আইনে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জার সমীর রঞ্জন সাহা।

গ্রেফতার মো. ফরহাদ হোসেন(৩৪) দিনাজপুর সদরের গৌরশহীদ বড় ময়দান এলাকার খাড়িপাড়ার মৃত আবদুল হকের ছেলে। তিনি দখল চেষ্টাকারি জমিরুল কাদের ওরফে হাফেজ ও জোবেদা ইয়াসমিনের (প্রকাশ মক্ষিরানী) মেয়ে সারিকা হোসেনের জামাই। ঘরজামাই হিসেবে তিনি শশুরবাড়িতে অবস্থান করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

রেঞ্জার সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার আরএস-৮০০১ দাগের সরকারি রক্ষিত বনভূমির কলাতলী পুরাতন বিট অফিস সংলগ্ন জমিতে রাতের আঁধারে সেমিপাকা স্থাপণা নির্মাণ করছিল স্থানীয় জমিরুল কাদের ওরফে হাফেজ ও জোবেদা ইয়াসমিন পরিবার। পর্যটন জোনের বন বিটের অফিসের সরকারি মূল্যবান জমিটি আরো বছর চারেক আগে থেকে দখলের চেষ্টা করে আসছিল। বনবিটে অবস্থানকারি বনকর্মীকে রাতের আঁধারে নানাভাবে ভয় ভীতি দেখি ২০২০ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে পৃথক দুবার স্থাপণা নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় দুটি মামলা করার পর তারা জবরদখল চেষ্টা থামিয়েছিল।

তিনি আরো জানান, কিন্তু এবারের কোরবানির ঈদে বনকর্মীদের ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারি জায়গাটি জবরদখল নিতে অপচেষ্টা চালায়। রবিবার (১৭ জুলাই) রাতের আঁধারে বেশি সংখ্যক শ্রমিক লাগিয়ে ইটের দেয়াল তুলে কক্ষ তৈরি করছিলেন। এ খবর পেয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযানের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১০টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বনকর্মীরা নির্মাণাধীন সেমিপাকা দেয়ালগুলো ভাঙা শুরু করে। এসময় জবরদখলকারি হাফেজ ও জোবেদার পরিবার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে উচ্ছেদকারি বনকর্মীদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। জোবেদা ইয়াসমিন নিজেই তার বহুতল ভবনের ছাদ হতে ইট নিক্ষেপ করছিলেন। বনকর্মীরা আত্মরক্ষা করে জবরদখলে অংশ নেয়া জোবেদা ও হাফেজের মেয়ে জামাই ফরহাদ হোসেনকে হাতে-নাতে আটক করে। তখন অন্যরা পালিয়ে যায়।

রেঞ্জার সমীর জানান, কার্যালয়ের মাঠ থেকে কাটা দুটি গামারি গাছ, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত কড়াই, বেলচা, কোদাল, কুর্ণী, টিন, রড, ইট, বালি জব্দ করে কক্সবাজার রেঞ্জ অফিস হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে মামলা করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এসব দখল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে জোবেদা ও হাফেজের ছেলে সাজিম একটি অপরাধী বাহিনী লালন করে বলে খবর পেয়েছি। থানায় খবর নিয়ে জেনেছি তার নামে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার ঘোষের নেতৃত্বে অভিযানে সদর রেঞ্জের সকল বিট কর্মকর্তা, বনকর্মী ও কমিউনিটি পেট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যরা অংশ নেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সারোয়ার আলম বলেন, ইতিপূর্বেও সরকারি এ জমি জবর দখলের চেষ্টার ঘটনায় ২০২০ সালেও জমিরুল কাদের হাফেজসহ অন্যান্য আসামীদের নামে ১৯২৭ সনের বন আইন (২০০০ সনে সংশোধিত) এর ৩৩ (১) (ঘ). (১ক) (গ) ধারা মোতাবেক একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আবাসন জোন হিসেবে জমির মূল্য বাড়ায় লোভের বশবতী হয়ে তারা সরকারি এ জমি দখলে নিতে মরিয়া। বনকর্মীরা জীবন বাজি রেখে তা প্রতিহত করছে।

দখলে অভিযুক্ত জোবেদা ইয়াসমিন মুঠোফোনে বলেন, জমিটি এক সময় বনবিভাগের ছিল। এখন কেনা মুলে আমরা মালিক। সম্প্রতি আমরা খতিয়ানও করেছি। এরপরও বনবিভাগ জমিটি তাদের দাবি করে আমাদের স্থাপণা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।