🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

জিএমপি কমিশনারের হস্তক্ষেপে গাজীপুর এখন যানজট মুক্ত মহানগর

Gazipur news
❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২১, ২০২২ ঢাকা

পলাশ মল্লিক, সময়ের কণ্ঠস্বর: গাজীপুরের আঞ্চলিক সড়ক থেকে মহাসড়ক, সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল অর্ধলক্ষাধিক অবৈধ অটোরিকশা। আর এতে করে জেলায় প্রায় প্রতিদিনই সড়কে প্রাণ হারাচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে অবৈধ এই যান চলাচলের বিরুদ্ধে বরাবরই গাজীপুরের সুশীলসমাজ প্রতিবাদী থাকলেও মিলেনি কোন সমাধান! কারণ গুটি কয়েক মানুষ তাদের পকেটভারী করতে এই অবৈধ অটো রিকশার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আর এতে প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও ছিল নানা প্রশ্ন।

তবে গাজীপুরের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যানজটের সেই চিরাচরিত রূপ যেন একদিনেই পাল্টে গেছে! গাজীপুর মহানগর এলাকার প্রতিটি সড়ক এবং মহাসড়ক এখন যানজট মুক্ত! এ যেন কোন এক যাদুকরের অদৃশ্য যাদুর কাঠির ছোয়ায় পাল্টে যাওয়া দৃশ্য। আর এই দৃশ্য গাজীপুরবাসী তথা গাজীপুরের সড়ক মহাসড়ক ব্যবহার করা অন্য জেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তারই বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধন্যবাদের বন্যায় ভাসছে একটি নাম । তিনি হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটানে সদ্য যোগদান করা পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

গাজীপুরে যোগদানের পরপরই গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। আর সেই আলোচনায় উঠে আসে মহানগরবাসীর সমস্যা এবং তার সমাধানের পথগুলো। এবং তারই ধারাবাহিকতায় শুরুতেই মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন এবং ফুটপাত দখলদারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি। আর ইতোমধ্যেই তার এ কাজের সুফল পেতে শুরু করেছে নগরবাসী।

আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা আসতে গত কয়েকদিন আগেও যেখানে ৪/৫ ঘন্টা সময় লাগতো, সেখানে বর্তমানে পরিবহনগুলোর সময় লাগছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। আর রাস্তার দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এ যেন কোন এক অচেনা সাঁজানো গোছানো শহর। একই দৃশ্য গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর এবং কোনাবাড়ী সড়কেও। উল্টো পথে অটো চলাচলের কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হওয়া চৌরাস্তা-সালনা সড়কেও ফিরেছে শৃঙ্খলা। আর এতে করে মহানগরবাসী যেমন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে তেমনি পরিবহনের চালকরাও আছেন শান্তিতে।

পরিবহন চালক খোরশেদ আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সব সময় আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। কখন যে হঠাৎ করেই সামনে এসে হাজির হতো এই অটোগুলো বুঝতে পারতাম না। হার্ড ব্রেক করে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেক সময়ই যাত্রীদের আঘাত দিয়েছি।  তবে গত দুদিন ধরে কতটা শান্তিতে গাড়ি চালাচ্ছি তা বলে বুঝাতে পারবো না।

রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে আসা জয়দেবপুরের বাসিন্দা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজিব হায়াত খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আব্দুল্লাপুর থেকে শিববাড়ী রাস্তাটি অভিশপ্ত রাস্তা। কর্মঘন্টার কতটা সময় যে এখানে ব্যয় হতো, তা হয়তো প্রশাসনের অনেকেই জানেন না। জানলে অনেক আগেই সমাধান হতো। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এই রাস্তায় আসার সাহস করতাম না। তবে অবৈধ অটোরিকশা তুলে দেয়ার খবরে আজ এসেছি। আব্দুল্লাপুর থেকে শিববাড়ি পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। আর রাস্তার এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশ কমিশনারকে ধন্যবাদ জানাতেও ভুল করেননি। সেই সাথে আগামীতে কোন অদৃশ্য শক্তির কাছে যেন হার না মানা হয় সে বিষয়টিও তুলে ধরেন এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।

বেশির ভাগ সড়কগুলোতেই উল্টো পথে ছিল এই অবৈধ অটোরিকশার চলাচল। একাধিক লাইন করে চলাচলকারী এই অবৈধ যানের অধিকাংশ চালক একদিকে যেমন ছিল অল্প বয়সী অন্যদিকে সড়কে চলাচলের কোন নিয়মকানুন না জানায় তাদের কারণে অনেক পরিবারই হয়েছেন নিঃস্ব। তারপরও শুধু মাত্র ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এই যানগুলো চলাচল করতে উৎসাহিত করা হতো। এক পরিসংখ্যান বলছে মহানগরে ৬০ হাজার বেশি অটোরিকশা চলাচল করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত একজন বলেন, প্রতিদিন এই অবৈধ অটোরিকশা থেকে একটি মহলের আয় অর্ধকোটি টাকারও বেশি। তিনি আরও বলেন, নিজেদের পকেট ভারী করতে মহাসড়কে অটো চালাতে তারাই এখন রাস্তায় নেমেছে। এতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত থাকার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কাজ করছি। নবাগত কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল মুক্ত করা। প্রাথমিকভাবে টঙ্গী ব্রিজ হতে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত সাড়াশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ লক্ষে পরিচালিত চলমান অভিযানে ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এগারোশো ইজিবাইক আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুরবাসীর প্রথম দাবী ছিলো যানজট মুক্ত হওয়া। সে লক্ষে আমাদের ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে এবং ডিবি সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষিদ্ধ কোন যান আমরা মহাসড়কে চলতে দিবো না।

তিনি আরও জানান, পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, দোকানের সামনে ভাড়া দেওয়া এবং মালামাল রাখা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও শৃংখলা ফেরাতে পর্যায়ক্রমে সকল সড়ক-মহাসড়কে সব রকম অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন