ভয়ংকর গৃহকর্মীর এলোপাথাড়ি দায়ের কোপে যেভাবে খুন হন গৃহকর্ত্রী!


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গৃহপরিচারিকার এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে মর্জিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহকর্ত্রী খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে উপজেলার চিকনদী ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বি এন ম্যানশন নামে একটি বাড়ির নিচ তলার ভাড়াটিয়া গৃহকর্ত্রী মর্জিনাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তাঁর গৃহকর্মী। পরে দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মর্জিনা বেগমের। এ ঘটনায় গৃহপরিচারিকাকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত গৃহপরিচারিকার নাম সঞ্চিতা চাকমা। আটককৃত সঞ্চিতা রাঙামাটি জেরার নানিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা। দুই সপ্তাহ আগে গৃহপরিচারিকা সঞ্চিতাকে মর্জিনা পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর বাসায় কাজ করা জন্য এনেছিল। বছরখানেক আগে গৃহপরিচারিকা সঞ্চিতা ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

নিহত মর্জিনা বেগম সিরাজগঞ্জের জেলার বেলকুচি উপজেলার শহিদুল হকের স্ত্রী। মর্জিনা বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তাঁর বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। তাঁর স্বামী শহিদুল হক চিকনদী ইউনিয়নের একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষক। প্রায় দেড় বছর যাবৎ ওই ভবনে ভাড়া ভাড়ায় থাকতেন এ দম্পতি।

এলাকাবাসী বলছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চিকনদী ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মিয়া কেরানির বাড়ি সংলগ্ন বি এন ম্যানশনে নিচ তলায় ভাড়াটিয়া গৃহকর্ত্রী মর্জিনাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন গৃহকর্মী সঞ্চিতা চাকমা। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে মর্জিনা বেগমের স্বামী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ভবনের (বি এন ম্যানশন) মালিক মো. বাহাদুর বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে দেখি, মর্জিনা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর সঞ্চিতা দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তখন মর্জিনার স্বামীকে মোবাইলে বিষয়টি জানাই। এ সময় আটককৃত সঞ্চিতা তার গৃহকর্ত্রীকে দা দিয়ে মাথায় ১০-১২টা কোপ দেয় বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।’

এদিকে, এ ঘটনায় পর অভিযুক্ত গৃহপরিচারিকা সঞ্চিতা চাকমা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে স্থানীয়রা আটক করে বেঁধে রাখে। পরে থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মর্জিনা বেগম শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। সকালে শিক্ষক স্বামী শহিদুল হক স্কুলে যাওয়ার পর সঞ্চিতাকে কাঁঠাল কেটে দিতে বলেন মর্জিনা। এ সময় সঞ্চিতা তা না করে রুটি তৈরি করছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বাধলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহপরিচারিকা সঞ্চিতা গৃহকর্ত্রী মর্জিনাকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় সঞ্চিতাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’