• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

সাতক্ষীরায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৬


❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০২২ খুলনা

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা: পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে পিস্তলের মুখে জিম্মি করে এক গরু ব্যবসায়ীর ২ লক্ষ টাকা ডাকাতির অভিযোগে আন্তঃ জেলা ডাকাত চক্রের মুল হোতা শরীফ হাসানুল বান্না ওরফে সুমনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ।

সোমবার ভোরে সুমনকে সদর উপজেলার মাগুরা বৌ-বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাইন্ড গুলি, ২টি পুলিশের হ্যান্ডক্যাপসহ ডাকাতি করার অন্যান্য সামগ্রী। সুমন সাতক্ষীরা সদরের নারায়নজোল গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে।

এর আগে গত শনিবার বিকালে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরো ৫ ডাকাতকে। তারা হলেন সদরের গোবিন্দকাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম সরদারের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৭) ও নজরুল ইসলামে মোড়লের ছেলে ইকরামুল মোড়ল (২৪), কাশেমপুর গ্রামের আঃ গফফার সরদারের ছেলে সাব্বির হোসেন (২২), পাথরঘাটা গ্রামের মৃত শেখ মোকছেদুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে সাহেব আলী (৩৩) ও কালিগঞ্জ থানার সোনাতলা এলাকার ফজর আলী কারিকরের ছেলে রাশিদুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা পৌরসভার মধুমোল্লারডাঙ্গী এলাকার গরু ব্যবসায়ী শেখ আনোয়ারুল ইসলাম ও তার ছেলে রিফাত হোসেন গরু বিক্রির ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের ওয়ারিয়া পূজা মন্ডপের সামনে আসলে তাদেরকে গতিরোধ করে সুমনসহ তার সহযোগীরা।

মাদকদ্রব্য থাকার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদেরকে মাইক্রোবাসে তুলে টাকা কেড়ে নিয়ে ঝাউডাঙ্গা বাজার পার হয়ে বাবা শেখ আনোয়ারুল ইসলাম ও তার ছেলে রিফাত হোসেনকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয়। তখন আনোয়ারুল ইসলাম দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় ৫ ডাকাতকে আটক করে পুলিশ।

তবে পালিয়ে যায় দলনেতা শরীফ হাসানুল বান্না ওরফে সুমন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শেখ আনোয়ারুল ইসলাম বাদি হয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা করেন। যার নং-৫০।

এদিকে দলনেতা শরীফ হাসানুল বান্নাকে সোমবার ভোরে সদর উপজেলার মাগুরা বৌ-বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় পুলিশের পোশাক, পরিচয়পত্র, ১ টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি পুলিশের হ্যান্ডক্যাপসহ ডাকাতি করার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রেস ব্রিফিং এ জানান পুলিশ সুপার।