🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

কর্ণফুলীতে সেতু নির্মাণকালেই ভেঙে লণ্ডভণ্ড সড়ক

Chattragarm news
❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০২২ চট্টগ্রাম

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ চলছিলো। কাজের শুরুতেই এলাকবাসীর অভিযোগ ছিল সেতুতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছেন। এখন আবার কাজ শেষ না হতেই ভেঙে একাকার সেতু সংলগ্ন জুলধা-শিকলবাহা সংযোগ সড়ক। স্থানীয়রা বলছেন কাজে অনিয়ম হওয়ার কারণে সড়কের একাংশ ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা যায়, গত মে মাসে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অধিকাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এরমধ্যে সড়কের দুপাশের মাটি সরে গেছে। ফলে ভেঙে গেছে মুল সড়ক। এতেই চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনদের। তাদের দাবি, দুর্ভোগ কমাতে অতি দ্রুত সেতু নির্মাণ ও বেহাল সড়কটি সংস্কার করা জরুরী।

দরপত্র ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে (জিওবি তহবিল উৎসে) কর্ণফুলীতে তিনটি সেতু নির্মাণে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৩ টাকার বরাদ্দ পেয়েছেন। এদের একটি জুলধা ইউনিয়নের পাইপের গোড়া বাজারের পাশে জুলধা-শিকলবাহা সংযোগ সড়কের খালের উপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু (৭০৮৮) নির্মাণ করা। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৯১ টাকা।

কিন্তু সেতুটি নির্মাণে টানা কাজ না করে কিছুদিন পর পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। পিআইও অফিস থেকে কাজের ব্যাপারে বারবার বলা হলেও কোনো ফল হয়নি। এরমধ্যেই বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি চলাচল এ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় ভেঙে গেছে অধিকাংশ সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ নুরুল হক চৌধুরী বলেন, একজন ঠিকাদারের অবহেলার কাছেই জিম্মি জুলধা-শিকলবাহা’র কয়েক হাজার মানুষ। পানি আটকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন। এতেই জুলধা ৮, ৯ ও শিকলবাহা ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে মানুষের ফসল নষ্ট হয়েছে। যেনো দেখার কেউ নেই। মেরুদন্ডহীন এক অকার্যকর প্রশাসন ব্যবস্থা চলছে কর্ণফুলীতে।

জুলধার (৮ নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, রাস্তা ভেঙে গেছে এটা আমাদের বিষয় না। ইউএনও আছে, উপজেলা চেয়ারম্যান আছে, প্রকৌশলী আছে, ঠিকাদার আছে ওটা উনাদের বিষয়।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। বিষয়টি আমি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করি একটা ব্যবস্থা হবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সানজা কনসোটিয়াম লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শিকলবাহার ফোরকান আহমদ বলেন, জোয়ারের স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেলে আমার করার কিছু নেই। আমি সেতু নির্মাণ করছি। এলাকার মানুষ ধৈর্য্য ধরলে কাজটি তোলা সম্ভব হতো। কিন্তু উল্টো তাঁরা কাজের জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। তবুও আমার কাজ প্রায় শেষের পথে এমনটাই দাবি তাঁর।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ রাস্তায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ওই কাজটি আমাদের না। এটি সম্ভবত পিআইও অফিসের কাজ। কর্ণফুলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উমা খান কাফির বলেন, অনিয়ম হয়েছে কিনা জানি না। ওই সেতুর কাজ করছেন শিকলবাহার মেসার্স সানজা কনসোটিয়াম লিমিটেড। আমি এখানে নতুন আসলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ না করায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন