ইরাকের পার্লামেন্ট ভবন বিক্ষোভকারীদের দখলে!


❏ বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০২২ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উচ্চ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ইরাকের বাগদাদে পার্লামেন্ট ভবনে শত শত বিক্ষোভকারী প্রবেশ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই ইরাকি শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদরের অনুসারী। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদে ইরান-সমর্থিত দলগুলোর মনোনয়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন।

বুধবার (২৮ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বিবিসি।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় কোনো সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

বিক্ষোভকারীরা বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে প্রবেশ করে, যেখানে সরকারি ভবন ও কূটনৈতিক মিশনের আবাসস্থল ছিল।

একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে বিক্ষোভকারীদের থামিয়েছিল বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করে তারা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে ও হামলা চালায়।

পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে অনেক বিক্ষোভকারীকে গান গাইতে ও নাচতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার টেবিলেও শুয়ে ছবি তুলছেন।

একটি ছবিতে একজন বিক্ষোভকারীকে ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকারের ডেস্কে শুয়ে ভি সাইন দেখাতে দেখা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর পদে ইরান-সমর্থিত দলগুলোর মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি। তিনি ইরাকের সাবেক একজন মন্ত্রী এবং সাবেক প্রাদেশিক গভর্নর। তবে বিক্ষোভকারীরা মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির এই প্রার্থীতার বিরোধিতা করছেন।

এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি পার্লামেন্ট ভবনে হামলার পর বিক্ষোভকারীদের গ্রিন জোন থেকে ‘অবিলম্বে সরে’ যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি মিশনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার যেকোনো ক্ষতি রোধ করবে’ নিরাপত্তা বাহিনী।

রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশটিতে টানা ৯ মাসের অচলাবস্থার পরেও এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে একটি নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী নেতা মুকতাদা আল সদর অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছেন।

কিন্তু জোট সরকার গঠন সম্ভব হচ্ছে না, কারণ মুকতাদা আল সদর শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করে আসছেন।

সুদানির প্রার্থিতার বিরোধিতা করার কারণ হল সদর ও তার দল সাদিস্ট মুভমেন্ট মনে করে তিনি ইরান ঘনিষ্ঠ।