• আজ বুধবার, ১৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

কেরানীগঞ্জে অবৈধ বিদ্যুৎতে অটোরিকশার চার্জ, সড়কেও বেপরোয়া

Narayangonj news
❏ শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০২২ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: বহু বছর ধরে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানে সয়লাব রাজধানীর কেরানীগঞ্জ। আবাসিক এলাকার অলিগলি, সড়ক, বৈধ-অবৈধ জায়গায় গ্যারেজ বানিয়ে নিষিদ্ধ এ যানে চুরি করা বিদ্যুৎতে দেয়া হচ্ছে চার্জ। যা দৈনিক চার্জে গড়ে ব্যবহার হচ্ছে ১৫শ থেকে ১৭শ ইউনিট বিদ্যুৎ। নাকের ডগায় এমন চুরির মহোৎসব হলেও যেন দেখার কেউ নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাই একাজে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা। এতে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর লাভবান হচ্ছে অসাধু অটোরিকশা গ্যারেজ মালিকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে গ্যারেজ। বিদ্যুৎতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে এসব গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে রাতের আঁধারে। উপজেলার শুভাঢ্যা, শাক্তা, কালিন্দী, চড়াইল, বাস্তা, রোহিতপুর, হযতরপুর, কলাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক গ্যারেজ। এসব গ্যারেজ চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরা। এর আশেপাশে ঘিরে গড়ে তোলার হয়েছে মুদি দোকান, চায়ের-দোকান। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। এসব গ্যারেজে যেভাবে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার। এবং যে পরিমাণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাই চলাচল করছে এক একটি অটোরিকশা ও ইজিবাই ব্যাটারির ছয় ঘণ্টা চার্জ দিতে হয়। ৬ ঘন্টা চার্জ দিলে গড়ে তিন ইউনিট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাদের যোগসাজশে গ্যারেজ মালিকরা অবৈধভাবে ব্যাটরি চার্জ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমানে অর্থ। একই অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হাসান জানান, অটোরিকশা সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে অলিগলিতে গ্যারেজের সংখ্যাও বাড়ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে গ্যারেজ মালিকরা লাভবান হচ্ছেন। আর সরকার হারাচ্ছেন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার নানা সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পিনার পাশপাশি এবিষয়ে এখনই কঠোর সিন্ধান্ত নেওয়া দরকার বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্যারেজ মালিক বলেন, একটি অটোারিকশার মধ্যে চারটি ব্যাটারি থাকে। বৈধ বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিতে গেলে পোষাবে না। গ্যারেজে রিকশা রাখা বাবদ প্রত্যেক মাসে পনেরো শত টাকা নেওয়া হয়। এর চেয়ে বেশি ভাড়া চাইলে কেউ গ্যারেজে রিকশা রাখবো না। তাই বাধ্য হয়েই অবৈধ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়। অটোরিকশা চালক সেলিম মিয়া বলেন, অনেক কষ্টে একটি অটোরিকশা কেনা হয়। কেনার পর থেকে তিনি নিজেই এটি চালিয়ে আসছেন। আগে যেখানে বাড়ির ব্যবহারিক বিদ্যুৎ বিল আসতো ৩শ টাকার মতো। কিন্তু অটোরিকশা চার্জ দেওয়ায় প্রতি মাসে বিল আসছে ১৬শ থেকে ১৮ শ টাকা। আরেক অটো চালক কাদির মিয়া বলেন, তার একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক রয়েছে। গত ২ বছর ধরে তিনি নিজেই চালিয়ে আসছেন। যেখানে আগে প্রতিমাসে ৭০-৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হতো। ইজিবাইক থাকার কারণে বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, আমরা শতভাগ চেষ্টা করছি চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে। অনেক সময় মেইন লাইনে ক্রুটি কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলেও দ্রুত সমস্যা সামাধান করা হয়। যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায়সহ মামলা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কসহ উপজেলায় সব প্রধান প্রধান সড়কেও বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারী চালিত ইজিবাই ও অটোরিকশা। কদমতলি, চুনকুটিয়া, হাসনাবাদ, ইকুরিয়া, রাজেন্দ্রপুর, আব্দুল্লাহপুর সড়কে এবং তার বাইরে এখন প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। শুধু তাই নয়, আইনের তোয়াক্কা না করেই দিন দিন ভয়ঙ্কর আকারে বাড়েই চলছে তিন চাকার ওই বাহনটি। এতে কেরানীগঞ্জবাসী মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরুপায় হয়ে ওই বাহনে মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছেন।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ট্রাফিক (দক্ষিণ) ইন্সপেক্টর পীযূষ কুমার মালো বলেন, অটোরিকশা যানবাহন সংজ্ঞায় না পড়ায় ট্রাফিক আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এতে রাস্তায় তীব্র যানজট হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন