• আজ বুধবার, ১৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

হারিকেন ধরারও সময় পাবেন না: প্রধানমন্ত্রীকে ফখরুল


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বিএনপি নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হারিকেন ধরার সময় এসে গেছে আপনাদের। জনগণ রাস্তায় নামলে আপনারা হাতে হারিকেন ধরারও সময় পাবেন না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে ভোলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আব্দুর রহিম মাতব্বর নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর-দক্ষিণ) আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিএনপি নেতারা হাতে হারিকেন নিয়ে বিক্ষোভ করায় সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলটির নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই মন্তব্যকে সামনে এনে তাকে উদ্দেশ করে মঙ্গলবার প্রতিবাদ সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিবে। হারিকেন ধরার সময় এসেছে আপনাদের। হারিকেন ধরার টাইমও পাবেন না। পেছনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ারও সময় পাবেন না। শ্রীলঙ্কার মাহেদ্র রাজাপাকসে পালাতে গিয়েও পালাতে পারছে না। ডিকটেটররা পালাতে চায় জনগণ তাদের পালাতে দেয় না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর সময় দেওয়া চলবে না। এখন আমাদের দাবি একটাই। এক দফা, এক দাবি…। আসুন সেই এক দফা আদায়ের লক্ষ্যে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে সবাই এগিয়ে আসি।

সরকারের সফলতা কোথায় প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আপনি দেশকে একটি শ্মশানে পরিণত করেছেন, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। কোথায় সফলতা আপনাদের। মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু দেখিয়ে বলেন এইখানে সব সাফল্য। কিন্তু দেশে শতকরা ৪২ জন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকে। হাজারো মানুষ এখন দুই বেলা খেতে পারে না।

আজকের সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে রাস্তা দখল করো। আমরা ঘোষণা করছি। আগামী পরশুদিন থেকে প্রতিটি অঙ্গ সংগঠন বিক্ষোভ করবে। আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করব।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের দাবি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশ করছিল। সেখানে পুলিশ অতর্কিত আক্রমণ চালায়, গুলি করে। আমার ভাই, আমার সহকর্মী আব্দুর রহিমকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন মানুষ গর্জে উঠেছিল, আব্দুর রহিমের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আমাদেরও গর্জে উঠতে হবে। তাদের ক্ষমতা থেকে নামিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর সরাফত আলী সফু, শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামসহ প্রমুখ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন