কমিটিতে কাঙ্খিত পদ না পেয়ে অভিমানে আ. লীগ নেতার আত্মহত্যা চেষ্টা!


❏ রবিবার, আগস্ট ৭, ২০২২ দেশের খবর, বরিশাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের পৌর কমিটিতে কাঙ্খিত পদ না পাবার কারনে অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন পটুয়াখালী আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য ঘোষিত কমিটির চার নম্বর সদস্য মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী মনু।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তবে পরিবারের তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর ভাতিজি সানজিদা সাবরিনা বাধন জানান, মনিরুজ্জামান চৌধুরী মনু বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

মনু চৌধুরীর পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আড়াই বছর পর পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষরিত এ কমিটি শুক্রবার সকালে প্রকাশ করা হয়। এ কমিটিতে আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী মনুকে চার নম্বর সদস্য করা হয়। এই ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতা রাগে, ক্ষোভে ও অভিমানে শুক্রবার রাত ১টার দিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি শনিবার ওই আওয়ামী লীগ নেতার ভাইয়ের মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে এ ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

সানজিদা সাবরিনা বাধন তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মণ্ডলীতে ও দুই বার পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান চৌধুরী মনুকে বর্তমান পৌর কমিটিতে ৪ নম্বর সাধারণ সদস্য বানানোর কষ্টে রাত ১ ঘটিকার সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরিবারের লোকজন তাকে রক্ষা করে।’

সানজিদা সাবরিনা বাধন বলেন, ‘মনু কাকা এমনিতেই হার্টের রোগী। কমিটিতে যোগ্যস্থান না পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে শুক্রবার রাত ১টার দিকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য তিনি বাসার ওপরে ওঠেন এবং সে সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাসার লোকজন টের পেয়ে কাকাকে উদ্ধার করি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি ও আমার অন্যান্য ভাইয়েরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের পৌর কমিটিতে ছিলাম, দুই বার দপ্তর সম্পাদক ছিলাম, শেষের দুই বার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। অথচ সেখানে আমাকে সদ্যঘোষিত কমিটিতে শুধু কার্যনির্বাহী কমিটির চার নম্বর সদস্য করা হয়। এর চেয়ে আমাকে কিছু না করলেও ভালো ছিল। আমাকে কিছু না করলেও আমার কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকত না। এভাবে আমাকে অপমান-অপদস্থ করাটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। কমিটির তালিকা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মোবাইলে কল দেওয়া হলে তারা কেউই কল রিসিভ করেননি।’

এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান চৌধুরী মনুর বড় ভাই ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মো. হুমায়ুন চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা সত্য, তাঁকে (মনু চৌধুরী) পদাবনতি করার ক্ষোভে ও অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শুক্রবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটান তিনি। টের পেয়ে আমার ভাইয়ের মেয়েরা গিয়ে তাঁকে রক্ষা করে। এ বিষয়ে আমার এক ভাইয়ের মেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছে। আমরা পাঁচ ভাই সবাই ছোট বেলা থেকেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ছোট ভাই মনু চৌধুরী এই রাজনীতি করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত বিয়েও করেননি। মূলত এ কষ্টেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।’

সদ্যঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুজ্জামান মনি বলেন, ‘মনু চৌধুরী আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিত কর্মী এবং দলের দুর্দিনের লড়াকু যোদ্ধা। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয়ভাবে দলের কাজও করছেন এবং বিগত কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে এবং থাকবেই। তাই বলে আত্মহত্যা করার মত এমন একটি ঘটনা ঘটাবেন তা সঠিক করেননি মনু চৌধুরী।’