কক্সবাজারে হোটেলের স্টাফ রুম থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার


❏ রবিবার, আগস্ট ৭, ২০২২ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের একটি আবাসিক হোটেল থেকে খালেদ আশরাফ বাপ্পি (২২) নামের যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবী, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, আত্মহত্যাও করে থাকতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।

শনিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ‘সী কক্স’ নামের হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বাপ্পি সদরের বাংলাবাজার কাজী অফিস সংলঘ্ন নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গফুরের ছেলে। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র একই সঙ্গে ‘সী কক্স’ হোটেলে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।

বাপ্পির মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘হোটেল সংলঘ্ন রেষ্টরেন্ট ব্যবসায়ী মুফিজ নামের এক যুবকের সাথে তার পার্টনারী রেস্টুরেন্টে ব্যবসা ছিলো। আমার ছেলে বাপ্পি মুফিজকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রেস্টুরেন্টের জন্য। ব্যবসার লাভ তো দুরের কথা; করোনার অজুহাতে তার (বাপ্পির) পুরো টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে মুফিজ। বিভিন্ন সময় টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিতেন মুফিজ। আমরা ধারণা করছি টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ওই মুফিজই আমার ছেলেকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।’

‘সী কক্সের রিজার্ভেশন অফিসার অর্ণব বলেন, ‘হোটেল থেকে কিছু দূরে হোটেলের স্টাফদের কোয়ার্টার। ওখানে স্টাফরা রাত্রিযাপন করেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ডিউটি শেষ করে বাপ্পি স্টাফ কোয়ার্টারে চলে যান। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই সময় কোয়াটারটিতে কেউ ছিল না।’

সদর থানার উপ-পরিদর্শক রিয়াজ বলেন, ‘লাশটি হাসপাতালে ছিল। সূত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি হোটেল ‘সী কক্সের’ ৫ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এক ব্যক্তিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সেখানকার কর্মীরা। পরে তারা ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা ঘটনাস্থলে এসে রুম তল্লাশি করে আলামত হিসেবে ফাঁসের একটি গামছা ও মোবাইল জব্দ করি। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সেলিম জানান, ‘মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে জানতে পারি। এরপরও যদি কোনো অভিযোগ পাই তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’