সরকার নিরুপায় হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে: কাদের


❏ রবিবার, আগস্ট ৭, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে শেখ হাসিনা সরকার নিরুপায় হয়ে মূল্য বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য-হ্রাস পেলে সরকার আবারও জ্বালানি মূল্য সমন্বয় করবে।

রোববার (৭ আগস্ট) তার বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যার ফলে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারেও প্রভাব পড়ে, এতে বিপিসিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা ছিল। বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির ফলে ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২২ পর্যন্ত বিপিসির লোকসান ছিল প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। এ প্রেক্ষাপটেই সরকারকে বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে ডিজেলের লিটার প্রতি মূল্য ১১২ টাকা ৫৬ পয়সা, ভারতে ১১৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১১৭ টাকা ৪৯ পয়সা, আরব আমিরাতে ১২২ টাকা ৮০ পয়সা, নেপালে ১২৭ টাকা ৮২ পয়সা, সিঙ্গাপুরে ১৮৯ টাকা ৭৮ পয়সা এবং হংকং-এ ২৬০ টাকা ৭৫ পয়সা।

তিনি বলেন, সরকার এর আগেও ৪ নভেম্বর ২০২১ সালে মূল্য সমন্বয় করে, তার আগে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ডিজেলের মূল্য কমিয়েছিল। ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারে দাম কমলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমিয়ে সমন্বয় করা হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এ কথা সত্য, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে। সরকার এ বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখে নেতিবাচক প্রভাব নিম্নপর্যায়ে রাখতে সচেষ্ট।

তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনমান, কৃষি উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধির বিবেচনায় নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্ববাজারে শিগগিরই জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করবে, সেটা আমাদের জন্য আশার বার্তা বয়ে আনবে।