যেন আলাদিনের চেরাগ খুঁজে পেয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা শওকত!

Cox's Bazar news
❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২ চট্টগ্রাম

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার: নাম এইচ এম শওকত। পেকুয়া উপজেলার বারকিয়া ইউনিয়নের দিনমজুর মৃত নন্না মিয়ার ছেলে। তিনি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।

বছর তিনেক আগেও ‍যার হাজার টাকা খরচ করতে বেগ পেতে হতো, তার সংগ্রহে রয়েছে বর্তমানে দুটি বিলাসবহুল ‘প্রাইভেট’ গাড়ি ও একাধিক দামি বাইক। ক্রয় করেছেন কোটি কোটি টাকার জমিজমা। শূন্য ভিটাই গড়েন কোটি টাকার অট্রালিকা, বিলাশবহুল অফিস। বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন অন্তত ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। যেন আলাদিনের চেরাগ খুঁজে পেয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা শওকত।

অভিযোগ উঠেছে, ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং প্রতারণার মাধ্যমে টাকার কুমিরে পরিণত হয়েছে শওকত। ছাত্রলীগ ও দুর্নীতিদমন কমিশন দুদকে করা অভিযোগেও শওকতকে শত কোটি টাকার মালিক বলে দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা শওকতের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পেকুয়া বাজারের ১২০ জন ব্যবসায়ী পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। শওকতের বেতনভুক্ত কিশোর গ্যাং এর ইফটিজিং এর কারণে স্কুল মাদ্রাসায় পড়ুয়া অনেক ছাত্রী এখন ঘরবন্দি।

স্থানীয় সাংসদের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে শওকতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা! উল্টো তার পক্ষে গিয়ে দখলবাজি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে জানিয়ে পেকুয়া ও জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শওকতকে নিরপরাধ বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঐ এমপি।

সূত্রে জানা যায়, অতীতে ছাত্রলীগের কোনো পোস্ট-পদবীতে না থাকলেও একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতার তদবীরে ২০২০সালের ২২নভেম্বরে গঠিত কমিটিতে রাতারাতি কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পদ ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হন শওকত।এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যে শওকত এর উত্থান রূপকথার গল্প কেউ হার মানিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর তিনেক আগেও ১০ থেকে ২০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে না পারা শওকতের সংগ্রহে বর্তমানে রয়েছে দুটি বিলাসবহুল প্রাইভেট’পাজেরো গাড়ি ও একাধিক দামি বাইক মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন শওকত। বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের পাশাপাশি নামে বেনামে ক্রয় করেছেন কোটি কোটি টাকার জমি।সম্প্রতি ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পেকুয়া বাজারে জুবাইদা কনস্ট্রাকশন নামে (মায়ের নামে) একটি রড সিমেন্টের বিশাল একটি দোকান খুলে বসেছেন। গত বছর প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা দিয়ে পেকুয়া বাজার ইজারা নিয়েছিলেন।

এ ছাড়াও চলতি বছর পেকুয়া বাজারের পূর্বে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এস এম গিয়াস উদ্দিনের বাড়ীর পাশে ২ কোটি টাকা মূলের একটি জমি ক্রয় করেছেন।পেকুয়া বাজারের এসডি ডেভালপের পিছনে দুই কানি ক্রয় করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য তিন থেকে সাড়ে কোটি টাকা। এর আগে স্থানীয় লায়েন মুজিবসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার মূল্যের জমি ক্রয় করেছেন। গ্রামে করছেন কোটি টাকা মূল্যের দালান বাড়ি। পেকুয়া বাজারে করেছেন বিলাসবহুল অফিস। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায় অন্তত আরও ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

মাদক কারবার, দখল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং এর অভিযোগ:

স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের দাবি ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে দেশব্যাপী গড়ে উঠা দুর্বৃত্ত একটি মাদকের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট ইয়াবা সরবরাহ করে থাকেন শওকত। শকতের বিরদ্ধে পেকুয়া বাজারের ১২০জন ব্যবসায়ী পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি খতিয়ানভুক্ত জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগে আজম, আবু সিদ্দিক, মনছর আলমসহ আরও কয়েকজন সাংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা সবাই শওকতকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছেন। পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, শওকতের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে তারা এ অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও পূর্বিতা চাকমা বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে শওকতের বিরুদ্ধে অনেকই আমাকে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি পেকুয়া বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমাকে দিয়েছেন। আমি অভিযোগটা তদন্তের জন্য পেকুয়া থানার ওসিকে দিয়েছি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শওকতের বিরুদ্ধে মাদকের ব্যবসা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি,সাবমেরিন ঘাটিতে নারী পাচারের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ছাড়াও অভিযোগে তার বেতনভুক্ত কিশোরগ্যাং কারনে স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া অনেক ছাত্রী এখন ঘরবন্দি বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ওসমান সরওয়ার বাপ্পি বলেন, শওকত আমার বাল্য বন্ধু। সে চট্রগ্রামের মহসীন কলেজ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তুু টাকার অভাবে সে এইচএসসি পাস করতে পারেনি। পরে ধার দেনা করে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে ২০১৫ সালে দেশে ফিরে আসেন। এবং একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজ শুরু করেন।কিন্তুু ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পর মাত্র বছর দেড়কের ব্যবধানে শওকত শত কোটি টাকার মালিক বনেগেছে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সময় আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর হাতে ইয়াবা ধরা পেকুয়ার উজানটিয়া ওয়ারেজ, মগনামার সোনালী বাজার এলাকার রমিজের ছেলে দুলাল ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাহাদাতুল কবিরসহ শওকতের অনুসারী ও বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচিত অনেকেই ইয়াবা অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, শওকতের বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার পর তাকে নজর রাখা হচ্ছে। আশা করি যে কোন সময় সফল একটি অভিযান করতে সক্ষম হবো।

একই কথা বলেছেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, শওকত ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশব্যাপী ইয়াবা সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ পেয়ে এ বিষয়ে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শওকতের বেতনভুক্ত অন্ততপক্ষে ২০ থেকে ৩০ সদস্যের একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। তারা নিয়মিত শওকতের নেতৃত্বে বাইকের বহর নিয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রীদের অশৃল্যহানি ও উত্তপ্ত করার কারনে অনেকে এখন পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরও এমপির ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলতে পারে না।

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেকুয়া থানার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবা নিয়ে আটক অন্তত দুইজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকতের নাম বলেছেন। কিন্তুু স্থানীয় এমপির নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে তাকে আসামি করা যায়নি। এ ছাড়াও ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে অযৌক্তিকভাবে শওকতের পক্ষে বিভিন্ন সময় জায়গা দখল করতে সাংসদ জাফর আলম পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন বলে দাবি এ পুলিশ কর্মকর্তার। একই অভিযোগ করেছেন পেকুয়া থানা একজন সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারহাদ আলি বলেন, আমি নতুন এসেছি তাই এত কিছু জানি না। আইনের উর্দ্ধে কেউ না উল্লেখ করে ছাত্রলীগ উঠা অভিযোগে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

শওকতের ভয়াবহ প্রতারণা ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব অনেকে :

শওকতের ব্যবসায়ীক পার্টনার বাঁশখালী উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইমরান বলেন, পেকুয়া নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাটিতে জিওব্যাগের কাজসহ নির্মাণসামগ্রীর সাপ্লাইয়ের কাজ করতাম। সেখানে সময় দিতে না পারার কারনে ছাত্রলীগের কর্মী বিবেচনায় ২০১৯সালে শওকতকে পার্টনার হিসেবে নেই। তখন আমি তাকে সাড়ে ২৬ লক্ষ টাকা দিলেও সে ১ টাকাও দিতে পারেনি শওকতের ছিলনা। পরে দেখলাম আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সে প্রতারণা মাধ্যমে ওয়ার্ক অর্ডার তার নামে করে নেন। এর পর থেকে আমাকে একটা টাকাও দিচ্ছে না। এখন আমি নিঃস্ব আমার আর কিছুই নেই।

ইমরান বলেন, ইয়াবা ব্যবসা ছাড়াও এত টাকা আয়ের কোন সুযোগ নেই।শওকতের কয়েকজন অনুসারী ইতিমধ্যে ইয়াবা নিয়ে আটক হয়েছেন এসব ইয়াবার চালান শওকতের বলে শুনেছি।

তার দেওয়া তথ্যমতে শওকত চট্রগ্রামে দিদারের কাছ থেকে ৫৫ লক্ষ্য টাকা, পেকুয়ার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক কোটি ৮০লক্ষ টাকা। কাউসার নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা মেরে খেয়েছে। তারা কেউ তেল,কেউ এস্কেভেটর, কেউ ইট কংকর সাপ্লাই করেছেন।

চট্রগ্রামের এরশাদ নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, শওকতের কাছ থেকে ডাম্পার ও এস্কেভেটর ভাড়া বাবদ আমি ২১লক্ষ টাকা পাই। তার জন্য পেকুয়া থানায় জিডি করেছি। কিন্তুু সে জিডি নেওয়ার কারনে উল্টো পুলিশকে হুমকি দিয়েছে। জেনেছি সে একজন এমপি শেল্টার আছে তাই বেপোরোয়া। আমি যেকোন ভাবে আমার টাকা ফেরৎ পেতে চাই।আমার কাছে সব ডকুমেন্ট রয়েছে।

চট্রগ্রামে আরিফিন নামের একজন বলেন, আমি শওকততে ডাম্পার ভাড়া দিয়েছিলাম ৮ লক্ষ টাকা পাই।সে টাকা দিচ্ছে না। আমি খুব বিপদে আছি। জালাল নামের এজন বালি সরবরাহ করে ৭লক্ষ টাকা আর দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেকুয়ার একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন শওকতের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়ে শওকত এখন টাকা আটকে রেখেছে। তবে তিনি সম্পর্ক রেখে কিছু টাকা আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন।

তেল সরবরাহ করে ২৭ লক্ষ টাকা শওকতের কাছ থেকে আদায় করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করে পেকুয়া বাজারে সালে আহমেদ সওঃ নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়াও প্রতিবেদককে বক্তব্য দেওয়ার পর শওকতের হুমকি ধমকির কারনে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আরো কয়েকজন।জানাগেছে,এভাবে শওকতের প্রতারণা ফাদেঁ পরে নিঃস্ব হয়েছেন আরো অনেকে। তারা পেকুয়ায় নির্মাণাধীন নৌঘাঁটিতে শওকতকে এস্কেভেটর, ডাম্পার গাড়ি, তেল, রড সিমেন্ট বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন।

এসব অভিযোগ উল্লেখ করে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা শওকত বলেন, আমি কোন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নই। আমি একজন জনপ্রিয় নেতা সবার সঙ্গে আমার ছবি থাকতে পারে।

জন্ম থেকে কোটিপতি উল্লেখ করে শওকত তার কাছে কোটি কোটি টাকা পাওয়া দাবি করা সবাইকে মিথ্যাবাদী ও প্রতারক বলে দাবি করেছেন। কোন জবর দখলের সঙ্গেও তিনি জড়িত নই বলে জানিয়ে নিজেকে বড় মাপের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দাবী করে শওকত বলেন, ২০১৮ সাল থেকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে আসছি যার প্রমান হিসেবে সব কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে। একটি প্রতিপক্ষ তার ব্যপারে নানান ষড়যন্ত্র করছেন বলে মন্তব্য করেন।

ছাত্রলীগ নেতা শওকতকে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে নিরপরাধ দাবি করে এমপি জাফর আলম বলেন, আজম নামের একজন পেকুয়া একজন শীর্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আমি বিশ্বাস করি না।

পুলিশকে দখলবাজি করতে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে এমপি জাফর আলম আরও বলেন, আমি কাউকে শওকতের পক্ষে দখলবাজি করতে বলিনি,বরং পেকুয়ার ওসি ও ইউএনও আমাকে একাধিকবার বিচার দিয়েছেন তার একটি জমির বিষয়ে।যেটি সন্ত্রাসী আজম দখল করতে চায়। এ জন্য দুইজন এসিল্যান্ড ও একজন ইউএনও বদলী করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা শওকতের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি তাকে জানানোর জন্য ভুক্তভোগীদেরকে অনুরোধ করেছেন এমপি জাফর আলম।

প্রসঙ্গত: শওকত জীবিকার দাগিদে একসময় মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। ২০১৫ সালের দেশে ফিরে আসেন। এসেই জড়িয়ে পড়েন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র রাজনীতিতে। এরপরে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে শুরু করেন চাঁদাবাজি। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেকুয়া থানার একজন পুলিশ অফিসার এর মাথা ফাঁটিয়ে আটক হন মোঃ শওকত। পরে একই দিন পুলিশের ওপরে হামলা ও সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তার পরিবার আর্থিকভাবে এতটাই দুর্বল ছিল যে স্থানীয় ও শুভাকাঙ্খীরা শওকতকে চাঁদা তুলে জামিনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জমান বলেন, ছাত্রলীগ নেতা শওকতের এসব অভিযোগের বিষয়ে আমি আগে জানতাম না। এখন খোঁজ খবর নেওয়া হবে।